শিরোনামঃ
মারা গেছেন হলিউড অভিনেতা ভ্যাল কিলমার কাউকে ক্ষমা করলে আল্লাহ সম্মান বাড়িয়ে দেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে : প্রধান উপদেষ্টা উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানে মার্কিন হামলার পরিকল্পনা আবার বিতর্কে মরিনিও, এবার টিপে দিলেন প্রতিপক্ষ কোচের নাক! দুই দিনে কতো আয় করলো সালমান খানের ‘সিকান্দার’? বির্তক থাকা সত্ত্বেও বেড়েছে আদানির বকেয়া পরিশোধ ও বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ বাংলাদেশি ভেবে বিএসএফের গুলি, ভারতীয় চোরাকারবারির মৃত্যু এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা বোর্ড প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন থাইল্যান্ডের দুই মন্ত্রী

কালীগঞ্জে বিলুপ্তির পথে কৃষকের মাথাল 

#
news image

‘রোদ-বৃষ্টিতে করে চাষ মাথালও মাথায়, এ যে মোদের খাঁটি মানুষ সোনার কৃষক ভাই।’ কবিতার এ পঙ্গক্তিদ্বয়ের দেশীয় ঐতিহ্য মাথালরা এখন কালীগঞ্জের গ্রাম এলাকায় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। এখন কৃষকদের মাথায় মাতাল খুব একটা চোখে মেলে না। মাঠে বেশির ভাড় কুষকদের মাথায় নানা ধরনের ক্যাপ টুপি দেখা যায়।

অনেকে ক্ষেতে কাজ করার সময় গামছা মাথায় পেচিয়ে রেখে কাজ করে থাকে। কালীগঞ্জ উপজেলার গ্রাম এলাকায় খাল বিল ও ফাকা মাঠে কৃষকদের মাথায় রোদ বৃষ্টি ঠেকানোর জন্য একখন তেমন একটা ব্যবহার নেই বললেই চলে। কৃষকতের মাথার মাতাল ক্রমান্বয়ে বিলুপ্তির পথে চোলে গেছে। এমন একসময় আসবে দখন আর মাতাল চোলে মিলবে না। বাংলার কৃষি, কৃষক আর মাথাল যেন এক সূত্রে বাঁধা। সনাতন প্রথার কৃষিকাজে কৃষকের এক অপরিহার্য কৃষি উপকরণ হলো মাথাল। রোদ-ববৃষ্টিতে কৃষকদের সারাদিন মাঠে কাজ করতে হয়। গ্রাম এলঅকার অনেক মাঠে কোনো আশ্রয় বা ছায়া দেয়া গাছ থাকে না। কৃষকদের কাজ করতে হয় দু’হাতে। তাই ছাতা হাতে ধরে ক্ষেতে কাজ করা সম্ভব হয় নয়।

সে জন্য প্রাচীনকাল থেকেই কৃষকরা নিজস্ব কলাকৌশলে ছাতার মতো একটি উপকরণ তৈরি করে নিয়েছে, যার নাম মাথাল বা মাতলা। মাথাকে রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচানোর জন্য এটি ব্যবহার হয় বলে এর নাম মাথাল। প্রাচীনকালে ছাতার ব্যবহার ছিল না। তাই তখন বর্ষাবাদলের দিনে গ্রামীন লোকেরা মাথাল ব্যবহার মাঠের কাজ করত। অঝরে বৃষ্টি হত তাও কৃষকরা মাথায় দিয়ে মনের সুখে গান করে কাজ করতো। মাথাল মাথায় থাকলে কোন ভাবেই মাথায় বৃষ্টির পানি পড়তো না ও প্রচন্ড রোদ হলে ও তেমন টা গরম লাগতো না। অনেক কৃষকরা বলছেন রোদের সময় মাতাল মাথায় দিয়ে কাজ করলে মাথাটা অনেক ঠান্ডা হত।

এমনকি শূকর চারণকারী সম্প্রদায়ের মানুষেরা শূকরের পাল চরানোর সময় ঢাউস আকারের বৃহত আকারে মাথাল ব্যবহার করে। মাথালের মাঝখানটা পিরামিড বা শম্বুকাকার। এ অংশটি মাথার মধ্যে নিয়ে বসে যায়। এর চারধারে বৃত্তাকারে থাকে ছাঁট বা কার্নিশ- অনেকটা ঘরের বারান্দার চালের মতো। তারা ফাকা মাঠের মধ্যে এ ছাতা নিয়ে ঘুমিয়ে থাকে ও বৃষ্টি হলে ও তেমন যেন কোন সমস্যাই হয় না।মাথালকে মাথার সাথে শক্তভাবে এঁটে রাখার জন্য রশি থাকে দু’পাশ থেকে।

মুখের নিচে থুতনির সাথে তা বেঁধে দেয়া হয়। মাথাল পানি প্রতিরোথী হওয়ায় তা পরে বর্ষার দিনেও কৃষকরা মাঠে স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারে। শুধু কৃষিকাজে নয়, মাথাল গম্ভীরা গানের শিল্পীদেরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাজ উপকরণ। অনেক কৃষকরা হোগলা পাতা দিয়ে বানানো অন্য আর এক ধরনের মাথাল নিয়মিত ব্যবহার করে থাকে।

বর্ষাকালে সেটি ব্যবহার হয় তাকে বলে ‘জোংড়া’। এটি শুধু মাথা নয়, পিঠও বর্ষার হাত থেকে রক্ষা করে। কৃষক সায়াম উদ্দিন জানান, আগে পাতলা ব্যবহার হতো অনেক বেশি কারণ সারাক্ষণ রোদ বৃষ্টিতে কাজ করলে এর বিকল্প ছিল না। বর্তমানে কৃষকরা রোদ-বৃষ্টিতে সারাক্ষণ কাজ কমই করে, মেশিনে চাষ করার ফলে এটা ব্যবহার করতে হয় না। স্প্র্রে দ্বারা ঘাস নিধনের ফলে খেত নিড়াতে হয় না।এখন কৃষকরা পাট, মরিচ, কলাই, আউস ধান, সরিষা ইত্যাদি ফসল কম চাষ করে যার জন্য সারাদিন একটানা কাজ করতে হয় না তাই মাথালের ব্যবহার কম হয়ে গেছে।

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকদের মাথাল বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে এমন ঘটনা আমলে আনেন দৈালতপুর গ্রামের কাজী এমদাদুল হক। তিনি এভাবে তালিকা তৈরি করে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের অন্তত সাড়ে ৬ হাজার মাতাল বিনা মুল্যে বিতারন করেছেন।

কোন মাঠে কৃষক খালি মাথায় কাজ করলে এমদাদের মাথায় কাজ করে না। তিনি নিজ বাড়িতে সর্কসময় মাথাল গচ্ছিত রাখেন, মাঠে খালি মাথায় কৃষকরা কাজ করলে বাড়ি থেকে মাতাল এন তাদের পাথায় পরিয়ে দেন ও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 

নাগরিক ডেস্ক

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪,  4:02 PM

news image

‘রোদ-বৃষ্টিতে করে চাষ মাথালও মাথায়, এ যে মোদের খাঁটি মানুষ সোনার কৃষক ভাই।’ কবিতার এ পঙ্গক্তিদ্বয়ের দেশীয় ঐতিহ্য মাথালরা এখন কালীগঞ্জের গ্রাম এলাকায় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। এখন কৃষকদের মাথায় মাতাল খুব একটা চোখে মেলে না। মাঠে বেশির ভাড় কুষকদের মাথায় নানা ধরনের ক্যাপ টুপি দেখা যায়।

অনেকে ক্ষেতে কাজ করার সময় গামছা মাথায় পেচিয়ে রেখে কাজ করে থাকে। কালীগঞ্জ উপজেলার গ্রাম এলাকায় খাল বিল ও ফাকা মাঠে কৃষকদের মাথায় রোদ বৃষ্টি ঠেকানোর জন্য একখন তেমন একটা ব্যবহার নেই বললেই চলে। কৃষকতের মাথার মাতাল ক্রমান্বয়ে বিলুপ্তির পথে চোলে গেছে। এমন একসময় আসবে দখন আর মাতাল চোলে মিলবে না। বাংলার কৃষি, কৃষক আর মাথাল যেন এক সূত্রে বাঁধা। সনাতন প্রথার কৃষিকাজে কৃষকের এক অপরিহার্য কৃষি উপকরণ হলো মাথাল। রোদ-ববৃষ্টিতে কৃষকদের সারাদিন মাঠে কাজ করতে হয়। গ্রাম এলঅকার অনেক মাঠে কোনো আশ্রয় বা ছায়া দেয়া গাছ থাকে না। কৃষকদের কাজ করতে হয় দু’হাতে। তাই ছাতা হাতে ধরে ক্ষেতে কাজ করা সম্ভব হয় নয়।

সে জন্য প্রাচীনকাল থেকেই কৃষকরা নিজস্ব কলাকৌশলে ছাতার মতো একটি উপকরণ তৈরি করে নিয়েছে, যার নাম মাথাল বা মাতলা। মাথাকে রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচানোর জন্য এটি ব্যবহার হয় বলে এর নাম মাথাল। প্রাচীনকালে ছাতার ব্যবহার ছিল না। তাই তখন বর্ষাবাদলের দিনে গ্রামীন লোকেরা মাথাল ব্যবহার মাঠের কাজ করত। অঝরে বৃষ্টি হত তাও কৃষকরা মাথায় দিয়ে মনের সুখে গান করে কাজ করতো। মাথাল মাথায় থাকলে কোন ভাবেই মাথায় বৃষ্টির পানি পড়তো না ও প্রচন্ড রোদ হলে ও তেমন টা গরম লাগতো না। অনেক কৃষকরা বলছেন রোদের সময় মাতাল মাথায় দিয়ে কাজ করলে মাথাটা অনেক ঠান্ডা হত।

এমনকি শূকর চারণকারী সম্প্রদায়ের মানুষেরা শূকরের পাল চরানোর সময় ঢাউস আকারের বৃহত আকারে মাথাল ব্যবহার করে। মাথালের মাঝখানটা পিরামিড বা শম্বুকাকার। এ অংশটি মাথার মধ্যে নিয়ে বসে যায়। এর চারধারে বৃত্তাকারে থাকে ছাঁট বা কার্নিশ- অনেকটা ঘরের বারান্দার চালের মতো। তারা ফাকা মাঠের মধ্যে এ ছাতা নিয়ে ঘুমিয়ে থাকে ও বৃষ্টি হলে ও তেমন যেন কোন সমস্যাই হয় না।মাথালকে মাথার সাথে শক্তভাবে এঁটে রাখার জন্য রশি থাকে দু’পাশ থেকে।

মুখের নিচে থুতনির সাথে তা বেঁধে দেয়া হয়। মাথাল পানি প্রতিরোথী হওয়ায় তা পরে বর্ষার দিনেও কৃষকরা মাঠে স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারে। শুধু কৃষিকাজে নয়, মাথাল গম্ভীরা গানের শিল্পীদেরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাজ উপকরণ। অনেক কৃষকরা হোগলা পাতা দিয়ে বানানো অন্য আর এক ধরনের মাথাল নিয়মিত ব্যবহার করে থাকে।

বর্ষাকালে সেটি ব্যবহার হয় তাকে বলে ‘জোংড়া’। এটি শুধু মাথা নয়, পিঠও বর্ষার হাত থেকে রক্ষা করে। কৃষক সায়াম উদ্দিন জানান, আগে পাতলা ব্যবহার হতো অনেক বেশি কারণ সারাক্ষণ রোদ বৃষ্টিতে কাজ করলে এর বিকল্প ছিল না। বর্তমানে কৃষকরা রোদ-বৃষ্টিতে সারাক্ষণ কাজ কমই করে, মেশিনে চাষ করার ফলে এটা ব্যবহার করতে হয় না। স্প্র্রে দ্বারা ঘাস নিধনের ফলে খেত নিড়াতে হয় না।এখন কৃষকরা পাট, মরিচ, কলাই, আউস ধান, সরিষা ইত্যাদি ফসল কম চাষ করে যার জন্য সারাদিন একটানা কাজ করতে হয় না তাই মাথালের ব্যবহার কম হয়ে গেছে।

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকদের মাথাল বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে এমন ঘটনা আমলে আনেন দৈালতপুর গ্রামের কাজী এমদাদুল হক। তিনি এভাবে তালিকা তৈরি করে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের অন্তত সাড়ে ৬ হাজার মাতাল বিনা মুল্যে বিতারন করেছেন।

কোন মাঠে কৃষক খালি মাথায় কাজ করলে এমদাদের মাথায় কাজ করে না। তিনি নিজ বাড়িতে সর্কসময় মাথাল গচ্ছিত রাখেন, মাঠে খালি মাথায় কৃষকরা কাজ করলে বাড়ি থেকে মাতাল এন তাদের পাথায় পরিয়ে দেন ও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন।