শিরোনামঃ
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে একনেক সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ১২ প্রকল্পের অনুমোদন  ইউরোপের পথে প্রতারণা, দালালের ফাঁদে স্বপ্ন এখন বন্দিশালা!  গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউপি ভোট ১২ নভেম্বর, সাত ধাপে নির্বাচন নভেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন লাইসেন্স ছাড়া করা যাবে না কোনো খাদ্য ব্যবসা ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে : ইসি আনোয়ারুল দীর্ঘ সময় এসি চালালে যেসব ভুল করবেন না

দৌলতপুর চরাঞ্চলের ত্রাস উজ্জ্বলের কারণে  আতঙ্ক এলাকাবাসী

#
news image

দৌলতপুরের পদ্মার চরাঞ্চলের ত্রাস উজ্জ্বল সরদারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। উজ্জ্বল সরদারের নেতৃত্বে তার ক্যাডাররা ১৪ জুন বিকালে দু’জন নিরীহ গ্রামবাসীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে।

স্থানীয় সংসদ-সদস্যের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এক সময়ের বিএনপির ক্যাডার ও বাহিনী প্রধান লালচাঁদের সামরিক শাখার সেকেন্ড ইন কমান্ড উজ্জ্বল সরদার। সরজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষা মরিচা ইউনিয়ন। বুধবার বিকালে ওই ইউনিয়নের শান্ত গ্রাম হাটখোলাপাড়ায় উজ্জ্বল সরদারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন শরিফুল ওরফে ভ্যালস মালিথা ও বজলু মালিথা নামে দুই নিরীহ গ্রামবাসী। এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনাকে পুঁজি করে উজ্জ্বল সরদারের নেতৃত্বে তার ক্যাডাররা এ হামলা চালায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উজ্জ্বল সরদার বিগত বিএনপি সরকারের সময় ওই দলের একজন চিহ্নিত ক্যাডার ও স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী লালচাঁদ বাহিনীর সামরিক শাখার সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন।

বিএনপি সরকার পরিবর্তন হলে তিনি দেশের বাইরে চলে যান। বছর পাঁচেক আগে এলাকায় ফিরে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ-সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এরই সুবাদে উজ্জ্বল সরদার এলাকার বালুঘাট দখল করে অবৈধভাবে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেন। পাশাপাশি তিনি এলাকায় নতুন করে সন্ত্রাসী বাহিনীও গড়ে তুলে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন বলে ভীতসন্ত্রস্ত এলাকাবাসী গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন। তবে নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহিদুর রহমান।

জোড়া খুনের ঘটনার পর থেকে উজ্জ্বল সরদার পলাতক রয়েছেন। তবে উজ্জ্বল সরদারের স্ত্রী মাসেদা খাতুনের দাবি, ঘটনার সঙ্গে উজ্জ্বল জড়িত নন এবং ঘটনার সময় তিনি ছিলেনও না। এদিকে স্থানীয় সংসদ-সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এছাড়া উজ্জ্বল সরদার জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন তিনি।

একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি। জোড়া খুনের ঘটনার পর এলাকার শান্তি ফেরাতে উজ্জ্বল সরদারকে দ্রুত গ্রেফতার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। ১৩ জুন বিকালে গরুতে জমির পাটখেত খাওয়া নিয়ে স্থানীয় এমপির ক্যাডার লালচাঁদ বাহিনীর সেকেন্ডে ইন কমান্ড উজ্জ্বল সরদার ও বজলু মালিথার মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এরই জের ধরে বুধবার বিকাল ৫টার দিকে মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলাপাড়া জামে মসজিদের সামনে দু’পক্ষের মধ্যে ফের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উজ্জ্বল সরদারের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বজলু মালিথার পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা করে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে একে অপরকে আঘাত করার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বজলু মালিথা গ্রুপের বজলু মালিথা ও শরিফুল মালিথা ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

আহত হন অন্তত ২০ জন। এদিকে জোড়া খুনের ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত বজলু মালিথার ছেলে নাহিদ হোসেন বাদী হয়ে উজ্জ্বল সরদারকে প্রধান আসামি করে ৩২ জনের নামে থানায় জোড়া খুনের মামলা করেছেন। এছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাত আসামি রয়েছে আরও ২২-২৫ জন। এ মামলার এজারহার নামীয় ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওসি মজিবুর রহমান জানান, মামলার এজাহার নামীয় ছয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। উজ্জ্বল সরদারসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।

মোঃ জিয়াউর রহমান, কুষ্টিয়া

১৮ জুন, ২০২৩,  4:06 PM

news image

দৌলতপুরের পদ্মার চরাঞ্চলের ত্রাস উজ্জ্বল সরদারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। উজ্জ্বল সরদারের নেতৃত্বে তার ক্যাডাররা ১৪ জুন বিকালে দু’জন নিরীহ গ্রামবাসীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে।

স্থানীয় সংসদ-সদস্যের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এক সময়ের বিএনপির ক্যাডার ও বাহিনী প্রধান লালচাঁদের সামরিক শাখার সেকেন্ড ইন কমান্ড উজ্জ্বল সরদার। সরজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষা মরিচা ইউনিয়ন। বুধবার বিকালে ওই ইউনিয়নের শান্ত গ্রাম হাটখোলাপাড়ায় উজ্জ্বল সরদারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন শরিফুল ওরফে ভ্যালস মালিথা ও বজলু মালিথা নামে দুই নিরীহ গ্রামবাসী। এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনাকে পুঁজি করে উজ্জ্বল সরদারের নেতৃত্বে তার ক্যাডাররা এ হামলা চালায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উজ্জ্বল সরদার বিগত বিএনপি সরকারের সময় ওই দলের একজন চিহ্নিত ক্যাডার ও স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী লালচাঁদ বাহিনীর সামরিক শাখার সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন।

বিএনপি সরকার পরিবর্তন হলে তিনি দেশের বাইরে চলে যান। বছর পাঁচেক আগে এলাকায় ফিরে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ-সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এরই সুবাদে উজ্জ্বল সরদার এলাকার বালুঘাট দখল করে অবৈধভাবে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেন। পাশাপাশি তিনি এলাকায় নতুন করে সন্ত্রাসী বাহিনীও গড়ে তুলে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন বলে ভীতসন্ত্রস্ত এলাকাবাসী গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন। তবে নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহিদুর রহমান।

জোড়া খুনের ঘটনার পর থেকে উজ্জ্বল সরদার পলাতক রয়েছেন। তবে উজ্জ্বল সরদারের স্ত্রী মাসেদা খাতুনের দাবি, ঘটনার সঙ্গে উজ্জ্বল জড়িত নন এবং ঘটনার সময় তিনি ছিলেনও না। এদিকে স্থানীয় সংসদ-সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এছাড়া উজ্জ্বল সরদার জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন তিনি।

একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি। জোড়া খুনের ঘটনার পর এলাকার শান্তি ফেরাতে উজ্জ্বল সরদারকে দ্রুত গ্রেফতার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। ১৩ জুন বিকালে গরুতে জমির পাটখেত খাওয়া নিয়ে স্থানীয় এমপির ক্যাডার লালচাঁদ বাহিনীর সেকেন্ডে ইন কমান্ড উজ্জ্বল সরদার ও বজলু মালিথার মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এরই জের ধরে বুধবার বিকাল ৫টার দিকে মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলাপাড়া জামে মসজিদের সামনে দু’পক্ষের মধ্যে ফের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উজ্জ্বল সরদারের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বজলু মালিথার পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা করে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে একে অপরকে আঘাত করার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বজলু মালিথা গ্রুপের বজলু মালিথা ও শরিফুল মালিথা ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

আহত হন অন্তত ২০ জন। এদিকে জোড়া খুনের ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত বজলু মালিথার ছেলে নাহিদ হোসেন বাদী হয়ে উজ্জ্বল সরদারকে প্রধান আসামি করে ৩২ জনের নামে থানায় জোড়া খুনের মামলা করেছেন। এছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাত আসামি রয়েছে আরও ২২-২৫ জন। এ মামলার এজারহার নামীয় ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওসি মজিবুর রহমান জানান, মামলার এজাহার নামীয় ছয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। উজ্জ্বল সরদারসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।