হলফনামায় তারেক রহমানের সম্পদ প্রায় ২ কোটি টাকা
নাগরিক সংবাদ অনলাইন
৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, 9:55 PM
হলফনামায় তারেক রহমানের সম্পদ প্রায় ২ কোটি টাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জমা দেওয়া হলফনামায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর আর্থিক অবস্থান ও মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তুলে ধরেছেন। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ১৮৫ টাকা। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময়ে দায়ের হওয়া ৭৭টি মামলার সবকটিতেই তিনি অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন এবং বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই।
বগুড়া-৬ (সদর) এবং ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-বারিধারা-ক্যান্টনমেন্ট) আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় এই হলফনামা দাখিল করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকের নির্বাসিত জীবন শেষে সম্প্রতি দেশে ফেরা তারেক রহমান হলফনামায় নিজের পেশা রাজনীতি উল্লেখ করেছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে দিয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক। তাঁর বয়স ৫৭ বছরের বেশি বলে উল্লেখ রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, সর্বশেষ আয়কর বিবরণীতে তারেক রহমানের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা। এ আয়ের বিপরীতে তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, বন্ড ও ব্যাংক আমানত থেকেই তাঁর এই আয় এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নগদ অর্থ ও ব্যাংকে তাঁর নিজের নামে রয়েছে ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা। পাশাপাশি স্ত্রীর নামে জমা রয়েছে ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৭ টাকা।
হলফনামায় দেখা যায়, তারেক রহমানের নিজের নামে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা গাড়ি নেই। তাঁর নামে কৃষিজমিও নেই। তবে ১ দশমিক ৪ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। যৌথ মালিকানায় ৮০০ বর্গফুটের একটি দোতলা ভবনের কথাও উল্লেখ আছে। এ ছাড়া ২ দশমিক ৯ শতাংশ জমির ওপর একটি ভবন উপহার হিসেবে পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন তিনি।
অস্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে শেয়ার ও কোম্পানির বিনিয়োগ। তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার মিলিয়ে তাঁর শেয়ারের মূল্য দেখানো হয়েছে কয়েক দশক লাখ টাকা। ব্যাংকে তাঁর নিজের নামে রয়েছে ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকার এফডিআর। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩৫ লাখ টাকার এফডিআর। অলংকার হিসেবে আছে মাত্র ২ হাজার ৯৫০ টাকা মূল্যের স্বর্ণ এবং আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা।
হলফনামায় তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানের সম্পদের বিবরণও দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক পেশার জুবাইদা রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার ১৯১ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ৩৫ লাখ ৬০ হাজার ৯২৫ টাকা এবং এ আয়ের বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৭১৩ টাকা।
মামলার তথ্য প্রসঙ্গে হলফনামায় বলা হয়েছে, ২০০৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৭৭টি মামলা দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে কোনোটি খারিজ, কোনোটি প্রত্যাহার এবং কোনোটি থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মামলায় অব্যাহতি পাওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন নেই বলে হলফনামায় স্পষ্ট করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হলফনামায় দেওয়া তথ্য যাচাইযোগ্য। অসত্য তথ্য প্রমাণিত হলে নির্বাচিত হওয়ার পরও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচনি আইনে প্রার্থীদের দেওয়া এসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র বাছাই, আপিল ও প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তারেক রহমানের হলফনামায় তাঁর সম্পদ ও আইনি অবস্থানের বিস্তারিত চিত্র সামনে এলো।
নাগরিক সংবাদ অনলাইন
৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, 9:55 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জমা দেওয়া হলফনামায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর আর্থিক অবস্থান ও মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তুলে ধরেছেন। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ১৮৫ টাকা। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময়ে দায়ের হওয়া ৭৭টি মামলার সবকটিতেই তিনি অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন এবং বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই।
বগুড়া-৬ (সদর) এবং ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-বারিধারা-ক্যান্টনমেন্ট) আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় এই হলফনামা দাখিল করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকের নির্বাসিত জীবন শেষে সম্প্রতি দেশে ফেরা তারেক রহমান হলফনামায় নিজের পেশা রাজনীতি উল্লেখ করেছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে দিয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক। তাঁর বয়স ৫৭ বছরের বেশি বলে উল্লেখ রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, সর্বশেষ আয়কর বিবরণীতে তারেক রহমানের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা। এ আয়ের বিপরীতে তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, বন্ড ও ব্যাংক আমানত থেকেই তাঁর এই আয় এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নগদ অর্থ ও ব্যাংকে তাঁর নিজের নামে রয়েছে ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা। পাশাপাশি স্ত্রীর নামে জমা রয়েছে ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৭ টাকা।
হলফনামায় দেখা যায়, তারেক রহমানের নিজের নামে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা গাড়ি নেই। তাঁর নামে কৃষিজমিও নেই। তবে ১ দশমিক ৪ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। যৌথ মালিকানায় ৮০০ বর্গফুটের একটি দোতলা ভবনের কথাও উল্লেখ আছে। এ ছাড়া ২ দশমিক ৯ শতাংশ জমির ওপর একটি ভবন উপহার হিসেবে পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন তিনি।
অস্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে শেয়ার ও কোম্পানির বিনিয়োগ। তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার মিলিয়ে তাঁর শেয়ারের মূল্য দেখানো হয়েছে কয়েক দশক লাখ টাকা। ব্যাংকে তাঁর নিজের নামে রয়েছে ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকার এফডিআর। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩৫ লাখ টাকার এফডিআর। অলংকার হিসেবে আছে মাত্র ২ হাজার ৯৫০ টাকা মূল্যের স্বর্ণ এবং আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা।
হলফনামায় তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানের সম্পদের বিবরণও দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক পেশার জুবাইদা রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার ১৯১ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ৩৫ লাখ ৬০ হাজার ৯২৫ টাকা এবং এ আয়ের বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৭১৩ টাকা।
মামলার তথ্য প্রসঙ্গে হলফনামায় বলা হয়েছে, ২০০৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৭৭টি মামলা দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে কোনোটি খারিজ, কোনোটি প্রত্যাহার এবং কোনোটি থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মামলায় অব্যাহতি পাওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন নেই বলে হলফনামায় স্পষ্ট করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হলফনামায় দেওয়া তথ্য যাচাইযোগ্য। অসত্য তথ্য প্রমাণিত হলে নির্বাচিত হওয়ার পরও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচনি আইনে প্রার্থীদের দেওয়া এসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র বাছাই, আপিল ও প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তারেক রহমানের হলফনামায় তাঁর সম্পদ ও আইনি অবস্থানের বিস্তারিত চিত্র সামনে এলো।