সুনামগঞ্জের ধোপাজান মহালেবোমা মেশিন, কোটি টাকার পাথর লুট
অরুন চক্রবর্তী, সুনামগঞ্জ
১২ জুন, ২০২৩, 8:05 PM
সুনামগঞ্জের ধোপাজান মহালেবোমা মেশিন, কোটি টাকার পাথর লুট
সুনামগঞ্জে বালু পাথর মহাল ধোপাজান নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার ও বোমা মেশিন চালিয়ে বালু পাথর উত্তোলণ করা হচ্ছে। সরকারিভাবে ইজারা বন্ধ থাকলেও একটি চক্র কৌশলে কোটি টাকার বালু পাথর বিক্রি করছে। এতে ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে কয়েক কিলোমিটার নদী তীর।
সম্প্রতি এমন অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কিছু দিন আগে নদী থেকে অবৈধভাবে তুলা পাথর টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে জব্দ করে প্রশাসন। জব্দকৃত পাথরের পরিমাণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৭৩ ঘনফুট। পরে তা ২২ মে প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে প্রতি ঘনফুট ৮৩ টাকা দরে কাইয়ারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আ. জলিলের ছেলে ফারুখ মিয়ার কাছে বিক্রি করা হয়।
ফারুক মিয়া আয়কর ও ভ্যাট সহ প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ৩২ হাজার ৯৪৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন ৩০ মে থেকে ৩০ জুন, অথাৎ এক মাসের মধ্যে পাথর সরানোর জন্য কার্যাদেশ দেন নিলাম গ্রহণকারীকে। সরজমিনে গিয়ে দেখা গে,ছে নিলামকারী নদীতে শ্রমিক দিয়ে পাথর উত্তোলণ করছেন। ড্রেজার ও বোমা মেশিন দিয়ে রাতের বেলা পাথর উত্তোলণের অভিযোগও রয়েছে। কেবল নিলামকৃত পাথর অপসারণ করে বিক্রয়ের কথা থাকলেও নদী থেকে পাথর তুলে বিক্রি করছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিলামকারী ব্যক্তি শ্রমিক দিয়ে নদী থেকে পাথর উত্তোলণ করছেন। প্রতি বারকী পাথর তারা কেনেন ১ হাজার থেকে আটারোশ টাকা দরে। এসব বারকী থেকে বড় পাথর স্টিলবডিতে রাখা হয় পাথর। স্টিলবডি বোঝাই করে নদী পথে বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে পাথর।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জের ধোপাজান বালু মিশ্রিত এই পাথর মহাল। ২০১৮ সনে ৬ মাসের জন্য সর্বশেষ প্রায় ১৭ লক্ষ টাকায় খণ্ডকালীন ইজারা দিয়েছিল সরকার। এরপর থেকে ইজারা বন্ধ রয়েছে।
এলাকাবাসি বলছেন, ধোপাজানে ইজারা বন্ধ থাকলেও নদী থেকে বালু পাথর উত্তোলন থেমে নেই। এতে ভাঙ্গনে হুমকির মুখে রয়েছে নদী তীরের কয়েক কিলোমিটার এলাকা। কাইয়ারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আহমেদ হোসেন (ছদ্মনাম) বলেন, প্রতিদিন হাজারো শ্রমিক নদীতে পাথর উত্তোলন করে। ব্যবসায়ীরা সেগুলো নদীর পাড়ে জমা করে রাখেন। বেশি পাথর জমা হলে ব্যবসায়ীরাই প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তারা টাস্কফোর্স চালিয়ে সেগুলো জব্দ করে নিলামে বিক্রি করে। পরে নিলাম নেওয়া পাথরের কারসাজিতেই চলছে নদীতে পাথর উত্তোলণের কাজ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসি জানান, নিলামকারী ও তার সহযোগীরা নদী থেকে পাথর উত্তোলন করছেন। তারা একমাসে নিলামে পাওয়া পাথর অপসারণ করার কথা। কিন্তু সেগুলো রেখে প্রকাশ্যে নদী থেকে পাথর উত্তোলণ করে বিক্রি করছে এরা। রাতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর পাড় কেটে পাথর তুলে তারাই। এক মাসের জন্য নদী লিজ এনেছেন দাবি করে নিলামকারী ফারুখ মিয়া বললেন, ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৭৩ ঘনফুট পাথরের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ঘনফুট পাথর সরাতে পারি নি।
একটি বড় নৌকা বোঝাই করতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ দিন লাগে। ছোট বারকী নৌকা দিয়ে বড় নৌকা লোড করতে হচ্ছে। এতে তিনি এক কোটি টাকা লোকসানের মধ্যে আছেন বলে দাবি করেন। তীর কেটে বালু- পাথর তুলার ব্যাপারে তিনি বলেন, ভোর ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ পর্যন্ত কাজ করি। এরপরে কারা এখানে কাজ করেন জানি না।গত ৮ জুন বৃহ¯পতিবার ধোপাজান পরিদর্শনে যান পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের সহকারি পরিচালক মোহাইমিনুল হক। তিনিও নদীতে ড্রেজার ও বোমা মেশিন চালিয়ে পাথর উত্তোলণের সত্যতা পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ধোপাজান চলতি নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার ও বোমা মেশিন দিয়ে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আমার এখানে আসা। এখানে এসে আমি প্রাথমিকভাবে ড্রেজার মেশিন চালানোর সত্যতা পেয়েছি। তিনি বলেন, নদীর পাড় কেটে যে অবস্থা করা হয়েছে সেটি ভবিষ্যতের জন্য হুমকি স্বরুপ। বড় ধরণের বন্যা বা দুর্যোগ এলে পাড় ভেঙে তীরবর্তী মানুষ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হবে।
জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের রিট থাকার ফলে ধোপাজান চলতি নদীতে বালি মিশ্রিত পাথর থাকায় দীর্ঘদিন ইজারা বন্ধ রয়েছে। এরপরেও কেউ অবৈধভাবে বালু- পাথর তুলে নেয়ার চেষ্টা করলে আমরা সেগুলো আটক করি। পরে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করি। কিন্তু সেগুলো নেয়ার সময় নিলামকারী নদী থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগ আমরাও পাই। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সত্যতা পেলে নিলাম বাতিল ও টাকা বাজেয়াপ্ত করবো।
অরুন চক্রবর্তী, সুনামগঞ্জ
১২ জুন, ২০২৩, 8:05 PM
সুনামগঞ্জে বালু পাথর মহাল ধোপাজান নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার ও বোমা মেশিন চালিয়ে বালু পাথর উত্তোলণ করা হচ্ছে। সরকারিভাবে ইজারা বন্ধ থাকলেও একটি চক্র কৌশলে কোটি টাকার বালু পাথর বিক্রি করছে। এতে ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে কয়েক কিলোমিটার নদী তীর।
সম্প্রতি এমন অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কিছু দিন আগে নদী থেকে অবৈধভাবে তুলা পাথর টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে জব্দ করে প্রশাসন। জব্দকৃত পাথরের পরিমাণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৭৩ ঘনফুট। পরে তা ২২ মে প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে প্রতি ঘনফুট ৮৩ টাকা দরে কাইয়ারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আ. জলিলের ছেলে ফারুখ মিয়ার কাছে বিক্রি করা হয়।
ফারুক মিয়া আয়কর ও ভ্যাট সহ প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ৩২ হাজার ৯৪৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন ৩০ মে থেকে ৩০ জুন, অথাৎ এক মাসের মধ্যে পাথর সরানোর জন্য কার্যাদেশ দেন নিলাম গ্রহণকারীকে। সরজমিনে গিয়ে দেখা গে,ছে নিলামকারী নদীতে শ্রমিক দিয়ে পাথর উত্তোলণ করছেন। ড্রেজার ও বোমা মেশিন দিয়ে রাতের বেলা পাথর উত্তোলণের অভিযোগও রয়েছে। কেবল নিলামকৃত পাথর অপসারণ করে বিক্রয়ের কথা থাকলেও নদী থেকে পাথর তুলে বিক্রি করছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিলামকারী ব্যক্তি শ্রমিক দিয়ে নদী থেকে পাথর উত্তোলণ করছেন। প্রতি বারকী পাথর তারা কেনেন ১ হাজার থেকে আটারোশ টাকা দরে। এসব বারকী থেকে বড় পাথর স্টিলবডিতে রাখা হয় পাথর। স্টিলবডি বোঝাই করে নদী পথে বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে পাথর।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জের ধোপাজান বালু মিশ্রিত এই পাথর মহাল। ২০১৮ সনে ৬ মাসের জন্য সর্বশেষ প্রায় ১৭ লক্ষ টাকায় খণ্ডকালীন ইজারা দিয়েছিল সরকার। এরপর থেকে ইজারা বন্ধ রয়েছে।
এলাকাবাসি বলছেন, ধোপাজানে ইজারা বন্ধ থাকলেও নদী থেকে বালু পাথর উত্তোলন থেমে নেই। এতে ভাঙ্গনে হুমকির মুখে রয়েছে নদী তীরের কয়েক কিলোমিটার এলাকা। কাইয়ারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আহমেদ হোসেন (ছদ্মনাম) বলেন, প্রতিদিন হাজারো শ্রমিক নদীতে পাথর উত্তোলন করে। ব্যবসায়ীরা সেগুলো নদীর পাড়ে জমা করে রাখেন। বেশি পাথর জমা হলে ব্যবসায়ীরাই প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তারা টাস্কফোর্স চালিয়ে সেগুলো জব্দ করে নিলামে বিক্রি করে। পরে নিলাম নেওয়া পাথরের কারসাজিতেই চলছে নদীতে পাথর উত্তোলণের কাজ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসি জানান, নিলামকারী ও তার সহযোগীরা নদী থেকে পাথর উত্তোলন করছেন। তারা একমাসে নিলামে পাওয়া পাথর অপসারণ করার কথা। কিন্তু সেগুলো রেখে প্রকাশ্যে নদী থেকে পাথর উত্তোলণ করে বিক্রি করছে এরা। রাতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর পাড় কেটে পাথর তুলে তারাই। এক মাসের জন্য নদী লিজ এনেছেন দাবি করে নিলামকারী ফারুখ মিয়া বললেন, ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৭৩ ঘনফুট পাথরের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ঘনফুট পাথর সরাতে পারি নি।
একটি বড় নৌকা বোঝাই করতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ দিন লাগে। ছোট বারকী নৌকা দিয়ে বড় নৌকা লোড করতে হচ্ছে। এতে তিনি এক কোটি টাকা লোকসানের মধ্যে আছেন বলে দাবি করেন। তীর কেটে বালু- পাথর তুলার ব্যাপারে তিনি বলেন, ভোর ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ পর্যন্ত কাজ করি। এরপরে কারা এখানে কাজ করেন জানি না।গত ৮ জুন বৃহ¯পতিবার ধোপাজান পরিদর্শনে যান পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের সহকারি পরিচালক মোহাইমিনুল হক। তিনিও নদীতে ড্রেজার ও বোমা মেশিন চালিয়ে পাথর উত্তোলণের সত্যতা পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ধোপাজান চলতি নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার ও বোমা মেশিন দিয়ে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আমার এখানে আসা। এখানে এসে আমি প্রাথমিকভাবে ড্রেজার মেশিন চালানোর সত্যতা পেয়েছি। তিনি বলেন, নদীর পাড় কেটে যে অবস্থা করা হয়েছে সেটি ভবিষ্যতের জন্য হুমকি স্বরুপ। বড় ধরণের বন্যা বা দুর্যোগ এলে পাড় ভেঙে তীরবর্তী মানুষ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হবে।
জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের রিট থাকার ফলে ধোপাজান চলতি নদীতে বালি মিশ্রিত পাথর থাকায় দীর্ঘদিন ইজারা বন্ধ রয়েছে। এরপরেও কেউ অবৈধভাবে বালু- পাথর তুলে নেয়ার চেষ্টা করলে আমরা সেগুলো আটক করি। পরে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করি। কিন্তু সেগুলো নেয়ার সময় নিলামকারী নদী থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগ আমরাও পাই। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সত্যতা পেলে নিলাম বাতিল ও টাকা বাজেয়াপ্ত করবো।