মহেশপুরে লাম্পি স্কিন ডিজিজের প্রভাবে দিশেহারা গরু খামারিরা

#
news image

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গবাদি পশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগ। এই রোগের প্রভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে গবাদি পশু পালনকারী খামারীরা।

প্রাণিসম্পদ অফিস ও স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের দেয়া তথ্যমতে, এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ। এই রোগের কারণে গরু নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলার গবাদি পশু পালনকারী ও খামারীরা। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ও পৌরসভায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, সীমান্তবর্তী উপজেলার অধিকাংশ নারী-পুরুষেরা সংসারে সচ্ছলতা আনার আশায় বিভিন্ন এনজিও থেকে টাকা নিয়ে গরু কিনে পালছেন বছরের পর বছর। কিন্তু হঠাৎই দেখা দেয়া গরুর ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ এর মতো মরণঘাতী সংক্রমণে তাদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।  

পৌর এলাকার কৈলাশপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন,আশা এনজিও থেকে টাকা তুলে ২টি গরু কিনেছি। তার মধ্যে ১টি গুরু ভুগছে ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ রোগে। গরুটাকে সুস্থ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গত প্রায় ১ মাস তার চোখে ঘুম নেই। শেষ পর্যন্ত কী হবে তাও তিনি জানেন না।

বগা গ্রামের হাসনা বানু নামের এক গৃহবধূ এনজিও থেকে টাকা নিয়ে গরু কিনেছিলেন ৩টি। সংক্রমিত হয়েছে এর মধ্যে ১টি গরু। ঋণের কিস্তি পরিশোধের আগেই সংক্রমণে তিনি আজ দিশেহারা। কীভাবে এ রোগ থেকে পরিত্রাণ পাবেন তাও তিনি বুঝতে পারছেন না।

খামারি ও কৃষক ফজলুর রহমান জানান, এই রোগ খুব ভয়াবহ। প্রথমে গরুর গা গরম হয়ে যায়। তারপর শরীরজুড়ে ছোট ছোট মাংসপিণ্ডের মতো ফুলে ওঠে। অনেকটা ফোস্কার মতো। কিছুদিন পর সেগুলো ফেটে রক্ত বের হয়। এ সময় গরু খাবার না খাওয়ায় রোগা হতে শুরু করে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিলেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার আতিবুর রহমান জানান, তারা এ রোগের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে ৩শ’র অধিক গরুর চিৎিসা দিয়েছেন এবং রোগ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। নতুন করে এই লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগ অনেকটা কমে এসেছে।

 

হোসাইন আহম্মেদ, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

১২ জুন, ২০২৩,  7:39 PM

news image

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গবাদি পশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগ। এই রোগের প্রভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে গবাদি পশু পালনকারী খামারীরা।

প্রাণিসম্পদ অফিস ও স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের দেয়া তথ্যমতে, এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ। এই রোগের কারণে গরু নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলার গবাদি পশু পালনকারী ও খামারীরা। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ও পৌরসভায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, সীমান্তবর্তী উপজেলার অধিকাংশ নারী-পুরুষেরা সংসারে সচ্ছলতা আনার আশায় বিভিন্ন এনজিও থেকে টাকা নিয়ে গরু কিনে পালছেন বছরের পর বছর। কিন্তু হঠাৎই দেখা দেয়া গরুর ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ এর মতো মরণঘাতী সংক্রমণে তাদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।  

পৌর এলাকার কৈলাশপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন,আশা এনজিও থেকে টাকা তুলে ২টি গরু কিনেছি। তার মধ্যে ১টি গুরু ভুগছে ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ রোগে। গরুটাকে সুস্থ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গত প্রায় ১ মাস তার চোখে ঘুম নেই। শেষ পর্যন্ত কী হবে তাও তিনি জানেন না।

বগা গ্রামের হাসনা বানু নামের এক গৃহবধূ এনজিও থেকে টাকা নিয়ে গরু কিনেছিলেন ৩টি। সংক্রমিত হয়েছে এর মধ্যে ১টি গরু। ঋণের কিস্তি পরিশোধের আগেই সংক্রমণে তিনি আজ দিশেহারা। কীভাবে এ রোগ থেকে পরিত্রাণ পাবেন তাও তিনি বুঝতে পারছেন না।

খামারি ও কৃষক ফজলুর রহমান জানান, এই রোগ খুব ভয়াবহ। প্রথমে গরুর গা গরম হয়ে যায়। তারপর শরীরজুড়ে ছোট ছোট মাংসপিণ্ডের মতো ফুলে ওঠে। অনেকটা ফোস্কার মতো। কিছুদিন পর সেগুলো ফেটে রক্ত বের হয়। এ সময় গরু খাবার না খাওয়ায় রোগা হতে শুরু করে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিলেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার আতিবুর রহমান জানান, তারা এ রোগের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে ৩শ’র অধিক গরুর চিৎিসা দিয়েছেন এবং রোগ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। নতুন করে এই লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগ অনেকটা কমে এসেছে।