ফুলবাড়ীতে কোরবানির চাহিদার চেয়ে ৬হাজার পশু বেশি
মোকাররম হোসেন, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
১০ জুন, ২০২৩, 3:49 PM
ফুলবাড়ীতে কোরবানির চাহিদার চেয়ে ৬হাজার পশু বেশি
আসন্ন কোরবানির ঈদ কে সামনে রেখে চাহিদার চেয়েও ৬হাজারের অধিক পশু প্রস্তুত করছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খামারিরা। এর মধ্যে বেশির ভাগই দেশি জাতের গরু। ক’দিন পরেই পুরোদমে শুরু হবে কোরবানির পশু কেনাবেচা। তাই শেষ প্রস্তুতি হিসেবে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলায় মোট গরু মোটাতাজাকরণ খামার রয়েছে ২৬১টি, ছাগলের খামার রয়েছে ১১১টি, ভেড়ার খামার রয়েছে ১৯টি। এসব খামার থেকে এবছর ১৯হাজার ৫শ টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। চলতি বছর এই উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৩ হাজার ১শ টি পশু। বাড়তি পশু রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৪শ ১১টি। যা এ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো সম্ভব হবে।
স্থানীয় খামারিরা বলছেন, এবার পর্যাপ্ত দেশি জাতের গরু পালন করেছেন তারা। গরুকে খাবার হিসেবে কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুট্টা এবং ধানের কুড়াসহ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। দেশের বাইরে থেকে গরু আমদানি করলে লোকসানে পড়বেন তারা।
খামারিরা আরো বলেন, কোরবানিকে সামনে রেখে পরিচর্যার কাজ করছেন। কিন্তু গরুর খাবারের দাম বেশি। তাই খামারিদের জন্য মোটাতাজাকরণ বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। এবার যে পরিমান দেশি গরু প্রস্তুত রয়েছে তা দিয়েই কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাই ঈদের আগে দেশের বাজারে ভারতীয় গরু প্রবেশে কঠোর নজরদারির দাবি করেছেন তারা। যদি সরকার কোরবানির পশু আমদানি করে তবে খামারিরা বিরাট লোকসানের মুখে পড়বে।
সরেজমিনে উপজেলার বেশ কয়েকটি খামারে গিয়ে দেখা যায়, পশু খামারগুলোতে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। পৌর এলাকার স্বজন পুকুর গ্রামের আমিন ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারের লোকজন। আমিন ফার্মের সত্ত্বাধিকারী রুহুল আমিন বলেন, আমাদের খামারে ক্রোস ব্রাহামা, ফ্রিজিয়ান, নেপালী, হরিয়ানা ও দেশি সহ উন্নত জাতের প্রায় ৫০টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে কোরবানির জন্য ২৫টি গরু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়ে থাকি যেমন ব্রাণ, ভুট্টা, খৈল, কাচা ঘাস, গমের ভুষি ও খড়।
অপরদিকে উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর এলাকার রাঙ্গামাটি গ্রামে ব্যবসায়ী ইব্রাহীম খলিল এর গরুর খামারে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ দিয়ে বানানো চালার উপরে মোটা ত্রিপলের ছাউনি দেয়া ৯টি সেডে ছোট, বড়, মাঝারি আকারের প্রায় সাড়ে ৮শ দেশি গরু রয়েছে। সেখানে গরু গুলো পরিচর্যা করছেন কর্মচারীরা।
খামারের ম্যানেজার নজমুল হক জানান, আমরা এবছর সবেমাত্র শুরু করেছি। এবার কোরবানিতে ১৫০টি দেশি গরু বিক্রি করা হবে। নতুন সেড তৈরির কাজ চলছে, পর্যায়ক্রমে আগামিতে আরও দেড় হাজার গরু প্রস্তুত করা হবে।
এদিকে আধুনিক পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরণ সহ পশু পালন এবং বাজারজাত করণে খামারিদের নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. রবিউল ইসলাম।
তিনি জানান, নিষিদ্ধ কোনো কেমিক্যাল ও হরমোন ঔষধ প্রয়োগ না করে প্রাকৃতিক উপায়ে গরুকে ভালো খাদ্য কীভাবে খাওয়াবে এবং কীভাবে মান সম্মত মাংস উৎপাদন করবে, সে বিষয়ে আমরা খামারিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। চলতি বছর এই উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৩ হাজার ১'শ টি পশু। এবছর ১৯হাজার ৫শ টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে গরু ১২ হাজার ১২০টি, ছাগল ৬হাজার ৬২১টি, মহিষ ৮টি এবং ভেড়া ৭৬২টি। এসব পশু উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি প্রায় ৬ হাজার ৪শ ১১টি পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো সম্ভব হবে।
মোকাররম হোসেন, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
১০ জুন, ২০২৩, 3:49 PM
আসন্ন কোরবানির ঈদ কে সামনে রেখে চাহিদার চেয়েও ৬হাজারের অধিক পশু প্রস্তুত করছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খামারিরা। এর মধ্যে বেশির ভাগই দেশি জাতের গরু। ক’দিন পরেই পুরোদমে শুরু হবে কোরবানির পশু কেনাবেচা। তাই শেষ প্রস্তুতি হিসেবে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলায় মোট গরু মোটাতাজাকরণ খামার রয়েছে ২৬১টি, ছাগলের খামার রয়েছে ১১১টি, ভেড়ার খামার রয়েছে ১৯টি। এসব খামার থেকে এবছর ১৯হাজার ৫শ টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। চলতি বছর এই উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৩ হাজার ১শ টি পশু। বাড়তি পশু রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৪শ ১১টি। যা এ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো সম্ভব হবে।
স্থানীয় খামারিরা বলছেন, এবার পর্যাপ্ত দেশি জাতের গরু পালন করেছেন তারা। গরুকে খাবার হিসেবে কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুট্টা এবং ধানের কুড়াসহ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। দেশের বাইরে থেকে গরু আমদানি করলে লোকসানে পড়বেন তারা।
খামারিরা আরো বলেন, কোরবানিকে সামনে রেখে পরিচর্যার কাজ করছেন। কিন্তু গরুর খাবারের দাম বেশি। তাই খামারিদের জন্য মোটাতাজাকরণ বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। এবার যে পরিমান দেশি গরু প্রস্তুত রয়েছে তা দিয়েই কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাই ঈদের আগে দেশের বাজারে ভারতীয় গরু প্রবেশে কঠোর নজরদারির দাবি করেছেন তারা। যদি সরকার কোরবানির পশু আমদানি করে তবে খামারিরা বিরাট লোকসানের মুখে পড়বে।
সরেজমিনে উপজেলার বেশ কয়েকটি খামারে গিয়ে দেখা যায়, পশু খামারগুলোতে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। পৌর এলাকার স্বজন পুকুর গ্রামের আমিন ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারের লোকজন। আমিন ফার্মের সত্ত্বাধিকারী রুহুল আমিন বলেন, আমাদের খামারে ক্রোস ব্রাহামা, ফ্রিজিয়ান, নেপালী, হরিয়ানা ও দেশি সহ উন্নত জাতের প্রায় ৫০টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে কোরবানির জন্য ২৫টি গরু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়ে থাকি যেমন ব্রাণ, ভুট্টা, খৈল, কাচা ঘাস, গমের ভুষি ও খড়।
অপরদিকে উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর এলাকার রাঙ্গামাটি গ্রামে ব্যবসায়ী ইব্রাহীম খলিল এর গরুর খামারে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ দিয়ে বানানো চালার উপরে মোটা ত্রিপলের ছাউনি দেয়া ৯টি সেডে ছোট, বড়, মাঝারি আকারের প্রায় সাড়ে ৮শ দেশি গরু রয়েছে। সেখানে গরু গুলো পরিচর্যা করছেন কর্মচারীরা।
খামারের ম্যানেজার নজমুল হক জানান, আমরা এবছর সবেমাত্র শুরু করেছি। এবার কোরবানিতে ১৫০টি দেশি গরু বিক্রি করা হবে। নতুন সেড তৈরির কাজ চলছে, পর্যায়ক্রমে আগামিতে আরও দেড় হাজার গরু প্রস্তুত করা হবে।
এদিকে আধুনিক পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরণ সহ পশু পালন এবং বাজারজাত করণে খামারিদের নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. রবিউল ইসলাম।
তিনি জানান, নিষিদ্ধ কোনো কেমিক্যাল ও হরমোন ঔষধ প্রয়োগ না করে প্রাকৃতিক উপায়ে গরুকে ভালো খাদ্য কীভাবে খাওয়াবে এবং কীভাবে মান সম্মত মাংস উৎপাদন করবে, সে বিষয়ে আমরা খামারিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। চলতি বছর এই উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৩ হাজার ১'শ টি পশু। এবছর ১৯হাজার ৫শ টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে গরু ১২ হাজার ১২০টি, ছাগল ৬হাজার ৬২১টি, মহিষ ৮টি এবং ভেড়া ৭৬২টি। এসব পশু উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি প্রায় ৬ হাজার ৪শ ১১টি পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো সম্ভব হবে।