নান্দাইলে কর্মকর্তার অবহেলায় ৫১বস্তা ভিজিডি’র চাল গায়েব

#
news image

ময়নসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভি.ডব্লিউ.বি) প্রকল্পের ভিজিডি কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. রাশেদা রহমানের দায়িত্বে অবহেলায় ১৭ জন ভিজিডি কার্ডধারী বরাদ্দকৃত চাল পাননি। ভিজিডি কার্ডের চাল বিতরণের ৮ দিন পর উপকারভোগীরা কার্ড হাতে পেলেও অতপর তিন মাসের জনপ্রতি বরাদ্দকৃত ৯০ কেজি চাল উপকারভোগীদের ভাগ্যে জুটেনি।

এ ঘটনায় ওই ১৭ জন উপকারভোগীর ১৫৩০ কেজি চাল আত্মসাত করেছেন নাকি চাল গায়েব হয়েছে তা নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান তাসলিমা আক্তারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। জানাগেছে, নান্দাইল উপজেলার ২নং মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ মার্চ ওই প্রকল্পের তালিকাভুক্ত প্রতি কার্ডধারীদের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত তিন মাসের বরাদ্দ ৯০ কেজি চাল এক সাথে বিতরণ করা হয়।

মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম কাদিরপুর গ্রামের কয়েকজন উপকারভোগীর সাথে কথা বলে বরাদ্দ না পাবার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। কাদিরপুর গ্রাম ঘূরে মোতালেবের বাড়িতে গলে তাঁর স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (৩৭) বলেন, তিনি দুই-আড়াইমাস আগে এলাকার ইউপি সদস্য কামরুল ইসলামকে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও অনলাইন নিবন্ধন খরচ বাবদ জন্য ৫০০ টাকা দিয়েছিলেন। তাঁর নাম সরকারের ভিডব্লিউবি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তা তিনি জানতেন না। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে তাঁর হাতে কার্ড পৌছানো হয়। তবে তিনি কোনো বরাদ্দ পাননি। কার্ডের লেখা রয়েছে গত ২৮ মার্চ তিনমাসের বরাদ্দ বিতরণ করা হয়েছে।

কিন্তু ফাতেমা জানান তিনি কোনো বরাদ্দ পাননি। একই গ্রামের ছোলেহা খাতুন উপকারভোগী বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে ইউপি সদস্য তাঁকে ডেকে ঘুম থেকে তুলে কার্ড দিয়ে গেছেন। কিন্তু তিনি বরাদ্দে চাল পাননি। কার্ডে চাল বিতরণের তথ্য লেখা রয়েছে জানালে ছোলেহা বলেন, তিনি ইউপিতে যাননি। তাঁর বরাদ্দ কে তুলেছে তিনি জানেন না। ঘরে যে চাল রয়েছে তা বাজার থেকে কেনা।

একই গ্রামের মিন্টু মিয়ার স্ত্রী (কার্ড নং ২৫) তাছলিমা খাতুন বলেন, তিনিও গত মঙ্গলবার কার্ড হাতে পেলেও বরাদ্দ পাননি। মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব মো. ইলিয়াস মওদুদী সোহেল মুঠোফোনে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান গত ২৭ মার্চ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভিডব্লিউ প্রকল্পের ১৭ জন উপকারভোগীর কার্ড সংগ্রহ করেছেন। সচিব দাবি করেন, কার্ডগুলো উপকারভোগীদের যথা সময়ে পৌছানো হয়েছে।

বরাদ্দ বিতরণ শেষ হওয়ার আটদিন পর কার্ডগুলো উপকাভোগীদের হাতে পৌছানো হয়েছে। তাহলে ১৭টি কার্ডের বরাদ্দ কারা তুলেছে জানতে চাইলে সচিব বলেন, তিনি এ বিষয়টি নিয়ে চেয়রম্যানের সাথে কথা বলবেন। মোয়াজ্জেমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোছা. তাসলিমা আক্তার বলেন, ১৭টি কার্ড ইউপি সদস্য কামরুল ইসলামের মাধ্যমে উপকারভোগীদের হাতে পৌছানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন উপকারভোগীরা বরাদ্দ পেয়েছেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাশেদা রহমান বলেন, মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের ভিডব্লিউ প্রকল্পের ২৭২টি কার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে। বেশিরভাগ কার্ড তাঁর কার্যালয়ের লোকজন ইউপিতে গিয়ে বিতরণ করেছে। কিছু কার্ড তাঁর কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করেছে উপকারভোগীরা।

বাকী ১৭টি কার্ড গত ২৭ মার্চ ইউপি চেয়ারম্যান তাসলিমা আক্তার নিয়ে গেছেন। যদিও এভাবে কার্ড দেওয়ার নিয়ম নেই। তারপরও একজন জনপ্রতিনিধির ফোন পেয়ে তিনি সেগুলো দিতে বাধ্য হয়েছেন। কোনো অনিয়ম হলে উপকারভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দেখবেন। 

মোঃ শাহজাহান ফকির, নান্দাই, (ময়মনসিংহ)

০৯ এপ্রিল, ২০২৩,  3:58 PM

news image

ময়নসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভি.ডব্লিউ.বি) প্রকল্পের ভিজিডি কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. রাশেদা রহমানের দায়িত্বে অবহেলায় ১৭ জন ভিজিডি কার্ডধারী বরাদ্দকৃত চাল পাননি। ভিজিডি কার্ডের চাল বিতরণের ৮ দিন পর উপকারভোগীরা কার্ড হাতে পেলেও অতপর তিন মাসের জনপ্রতি বরাদ্দকৃত ৯০ কেজি চাল উপকারভোগীদের ভাগ্যে জুটেনি।

এ ঘটনায় ওই ১৭ জন উপকারভোগীর ১৫৩০ কেজি চাল আত্মসাত করেছেন নাকি চাল গায়েব হয়েছে তা নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান তাসলিমা আক্তারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। জানাগেছে, নান্দাইল উপজেলার ২নং মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ মার্চ ওই প্রকল্পের তালিকাভুক্ত প্রতি কার্ডধারীদের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত তিন মাসের বরাদ্দ ৯০ কেজি চাল এক সাথে বিতরণ করা হয়।

মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম কাদিরপুর গ্রামের কয়েকজন উপকারভোগীর সাথে কথা বলে বরাদ্দ না পাবার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। কাদিরপুর গ্রাম ঘূরে মোতালেবের বাড়িতে গলে তাঁর স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (৩৭) বলেন, তিনি দুই-আড়াইমাস আগে এলাকার ইউপি সদস্য কামরুল ইসলামকে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও অনলাইন নিবন্ধন খরচ বাবদ জন্য ৫০০ টাকা দিয়েছিলেন। তাঁর নাম সরকারের ভিডব্লিউবি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তা তিনি জানতেন না। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে তাঁর হাতে কার্ড পৌছানো হয়। তবে তিনি কোনো বরাদ্দ পাননি। কার্ডের লেখা রয়েছে গত ২৮ মার্চ তিনমাসের বরাদ্দ বিতরণ করা হয়েছে।

কিন্তু ফাতেমা জানান তিনি কোনো বরাদ্দ পাননি। একই গ্রামের ছোলেহা খাতুন উপকারভোগী বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে ইউপি সদস্য তাঁকে ডেকে ঘুম থেকে তুলে কার্ড দিয়ে গেছেন। কিন্তু তিনি বরাদ্দে চাল পাননি। কার্ডে চাল বিতরণের তথ্য লেখা রয়েছে জানালে ছোলেহা বলেন, তিনি ইউপিতে যাননি। তাঁর বরাদ্দ কে তুলেছে তিনি জানেন না। ঘরে যে চাল রয়েছে তা বাজার থেকে কেনা।

একই গ্রামের মিন্টু মিয়ার স্ত্রী (কার্ড নং ২৫) তাছলিমা খাতুন বলেন, তিনিও গত মঙ্গলবার কার্ড হাতে পেলেও বরাদ্দ পাননি। মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব মো. ইলিয়াস মওদুদী সোহেল মুঠোফোনে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান গত ২৭ মার্চ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভিডব্লিউ প্রকল্পের ১৭ জন উপকারভোগীর কার্ড সংগ্রহ করেছেন। সচিব দাবি করেন, কার্ডগুলো উপকারভোগীদের যথা সময়ে পৌছানো হয়েছে।

বরাদ্দ বিতরণ শেষ হওয়ার আটদিন পর কার্ডগুলো উপকাভোগীদের হাতে পৌছানো হয়েছে। তাহলে ১৭টি কার্ডের বরাদ্দ কারা তুলেছে জানতে চাইলে সচিব বলেন, তিনি এ বিষয়টি নিয়ে চেয়রম্যানের সাথে কথা বলবেন। মোয়াজ্জেমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোছা. তাসলিমা আক্তার বলেন, ১৭টি কার্ড ইউপি সদস্য কামরুল ইসলামের মাধ্যমে উপকারভোগীদের হাতে পৌছানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন উপকারভোগীরা বরাদ্দ পেয়েছেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাশেদা রহমান বলেন, মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের ভিডব্লিউ প্রকল্পের ২৭২টি কার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে। বেশিরভাগ কার্ড তাঁর কার্যালয়ের লোকজন ইউপিতে গিয়ে বিতরণ করেছে। কিছু কার্ড তাঁর কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করেছে উপকারভোগীরা।

বাকী ১৭টি কার্ড গত ২৭ মার্চ ইউপি চেয়ারম্যান তাসলিমা আক্তার নিয়ে গেছেন। যদিও এভাবে কার্ড দেওয়ার নিয়ম নেই। তারপরও একজন জনপ্রতিনিধির ফোন পেয়ে তিনি সেগুলো দিতে বাধ্য হয়েছেন। কোনো অনিয়ম হলে উপকারভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দেখবেন।