মাদকের অভয়ারণ্য তৈরী হচ্ছে মানিকগঞ্জের রুপসা এলাকা
জেলা সংবাদদাতা
২৮ মার্চ, ২০২৩, 2:28 PM
মাদকের অভয়ারণ্য তৈরী হচ্ছে মানিকগঞ্জের রুপসা এলাকা
দেশে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। শহর থেকে গ্রামাঞ্চল- সর্বত্রই এখন হাতের নাগালে পাওয়া যায় এসব। বিগত বছরগুলোয় এর বিস্তার ঘটেছে আশঙ্কাজনকভাবে।এরই ধারাবাহিকতায় মাদকের অভয়ারণ্য হিসেবে তৈরী হয়েছে মানিকগঞ্জের রুপসা এলাকা।বেশ কয়েকজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী তাদের কুচক্রী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে মাদকদ্রব্য সহজলভ্যতার জন্য বাড়ছে মাদকসেবির সংখ্যা। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এলাকার শিশু, কিশোর,যুবকরা।এভাবে চলতে থাকলে পুরো একটি প্রজন্ম মাদকের কবলে পরে ধ্বংস হয়ে যাবে।স্থানীয়সুত্রে জানা যায়, এলাকার মাদকের গডফাদার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হযরত আলী, তার সহযোগী হিসেবে কাজ করে এ এলাকার সাবেক ইউ পি সদস্য নিজামুদ্দিন,নিজামুদ্দিন এর মত আরও অন্তত ২০ জনেরও অধিক ছোট ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ী রয়েছেন এ অঞ্চলে। তবে এদের চেয়ে পুরোনো ব্যবসায়ী হল আজাহার।যার নামে একাধিক মামলা চলমান। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন মাদকের গডফাদার আইন শৃঙ্খলার হাতে ধরা পড়লেও ব্যাপারটা অনেকটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত হয়েছে।
গত এক যুগে বিভিন্ন সংস্থা প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক সবচেয়ে বেশি উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা, হেরোইন, কোকেন, আফিম, গাঁজা ও ফেনসিডিল। বিভিন্ন সংস্থাএসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ঘটনাই উদঘাটিত হয় না; যে পরিমাণ মাদক ধরা পড়ে, তা খুবই সামান্য। বিভিন্ন সংস্থার তথ্যানুযায়ী, অবৈধ মাদকদ্রব্য আমদানিতে প্রতিবছর বিদেশে পাচার হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিস্তারে সেবনকারীর আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থা রোধ করা না গেলে একটি প্রজন্মের চিন্তার জগতে সৃষ্টি হবে বন্ধ্যত্ব। দীর্ঘমেয়াদে এর ফল কতটা ভয়াবহ হবে, তা সহজেই অনুমেয়।
মাদকদ্রব্য মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। দেশে এখন কত রকমের মাদক আসছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইন- সর্বনাশা এসব মাদকদ্রব্য পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে যেমন আসছে, তেমনি দেশেও ভেজাল উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে। ফলে একই সঙ্গে মাদক ও ভেজাল দু’ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে সেবনকারীরা। চিকিৎসার মাধ্যমে নেশার থাবা থেকে মুক্তি মিললেও ভেজাল মেশানো মাদক গ্রহণের ক্ষেত্রে সে সুযোগও পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে মৃত্যু বা পঙ্গুত্ববরণ এড়ানো যায় না। মাত্র কয়েক হাজার টাকার কাঁচামাল দিয়ে অন্তত এক লাখ ইয়াবা তৈরি করা যায়, যার মূল্য প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা। ফলে লোভে পড়ে অনেকেই এটি তৈরি করছে। চাহিদা থাকায় অলিগলিতে তৈরি হচ্ছে মাদকদ্রব্য।
মাদকদ্রব্য কেনাবেচা ও সেবনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে ভয়ংকর সব অপরাধ। কাজেই মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকার পরও মাদকের অবৈধ প্রবেশ ও ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, চাহিদার কারণেই এমনটি হচ্ছে। তাছাড়া শর্ষের ভূতের কারণেও এক্ষেত্রে সুফল মিলছে না। মাদকের বিস্তার রোধে সরকারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলাও জরুরি।
জেলা সংবাদদাতা
২৮ মার্চ, ২০২৩, 2:28 PM
দেশে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। শহর থেকে গ্রামাঞ্চল- সর্বত্রই এখন হাতের নাগালে পাওয়া যায় এসব। বিগত বছরগুলোয় এর বিস্তার ঘটেছে আশঙ্কাজনকভাবে।এরই ধারাবাহিকতায় মাদকের অভয়ারণ্য হিসেবে তৈরী হয়েছে মানিকগঞ্জের রুপসা এলাকা।বেশ কয়েকজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী তাদের কুচক্রী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে মাদকদ্রব্য সহজলভ্যতার জন্য বাড়ছে মাদকসেবির সংখ্যা। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এলাকার শিশু, কিশোর,যুবকরা।এভাবে চলতে থাকলে পুরো একটি প্রজন্ম মাদকের কবলে পরে ধ্বংস হয়ে যাবে।স্থানীয়সুত্রে জানা যায়, এলাকার মাদকের গডফাদার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হযরত আলী, তার সহযোগী হিসেবে কাজ করে এ এলাকার সাবেক ইউ পি সদস্য নিজামুদ্দিন,নিজামুদ্দিন এর মত আরও অন্তত ২০ জনেরও অধিক ছোট ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ী রয়েছেন এ অঞ্চলে। তবে এদের চেয়ে পুরোনো ব্যবসায়ী হল আজাহার।যার নামে একাধিক মামলা চলমান। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন মাদকের গডফাদার আইন শৃঙ্খলার হাতে ধরা পড়লেও ব্যাপারটা অনেকটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত হয়েছে।
গত এক যুগে বিভিন্ন সংস্থা প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক সবচেয়ে বেশি উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা, হেরোইন, কোকেন, আফিম, গাঁজা ও ফেনসিডিল। বিভিন্ন সংস্থাএসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ঘটনাই উদঘাটিত হয় না; যে পরিমাণ মাদক ধরা পড়ে, তা খুবই সামান্য। বিভিন্ন সংস্থার তথ্যানুযায়ী, অবৈধ মাদকদ্রব্য আমদানিতে প্রতিবছর বিদেশে পাচার হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিস্তারে সেবনকারীর আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থা রোধ করা না গেলে একটি প্রজন্মের চিন্তার জগতে সৃষ্টি হবে বন্ধ্যত্ব। দীর্ঘমেয়াদে এর ফল কতটা ভয়াবহ হবে, তা সহজেই অনুমেয়।
মাদকদ্রব্য মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। দেশে এখন কত রকমের মাদক আসছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইন- সর্বনাশা এসব মাদকদ্রব্য পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে যেমন আসছে, তেমনি দেশেও ভেজাল উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে। ফলে একই সঙ্গে মাদক ও ভেজাল দু’ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে সেবনকারীরা। চিকিৎসার মাধ্যমে নেশার থাবা থেকে মুক্তি মিললেও ভেজাল মেশানো মাদক গ্রহণের ক্ষেত্রে সে সুযোগও পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে মৃত্যু বা পঙ্গুত্ববরণ এড়ানো যায় না। মাত্র কয়েক হাজার টাকার কাঁচামাল দিয়ে অন্তত এক লাখ ইয়াবা তৈরি করা যায়, যার মূল্য প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা। ফলে লোভে পড়ে অনেকেই এটি তৈরি করছে। চাহিদা থাকায় অলিগলিতে তৈরি হচ্ছে মাদকদ্রব্য।
মাদকদ্রব্য কেনাবেচা ও সেবনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে ভয়ংকর সব অপরাধ। কাজেই মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকার পরও মাদকের অবৈধ প্রবেশ ও ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, চাহিদার কারণেই এমনটি হচ্ছে। তাছাড়া শর্ষের ভূতের কারণেও এক্ষেত্রে সুফল মিলছে না। মাদকের বিস্তার রোধে সরকারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলাও জরুরি।