বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় চৌহালীতে কৃষকের মুখে হাসি
মাহমুদুল হাসান, চৌহালী (সিরাজগঞ্জের)
২৩ এপ্রিল, ২০২৩, 3:44 PM
বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় চৌহালীতে কৃষকের মুখে হাসি
এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায়। চৌহালী বন্যাদুর্গত ও দুর্গোম এলাকা হিসাবে এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার বোরো চাষ কে সৌভাগ্য হিসাবে মনে করছেন। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের কৃষি মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারহ। দিগন্তজুড়া সবুজের মাঠ আর সোনালী ধান দোল খাচ্ছে। কৃষি মাঠের দিকে তাকালে মন ভরে যায় এবং সবুজের সমারোহে চোখ জুড়িয়ে যায় যেনো। তাই ইরি বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের মুখে যেন হাসির ঝিলিক।
বর্তমানে উপজেলার প্রতিটি মাঠ কৃষকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। বড় ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিলে মাথায় হাত ছাড়া কোন উপায় থাকবে না বলে আলাপ চারিতায় চাষীরা প্রতিবেদক কে জানায়। চাষীরা বর্তমানে দু-নয়ন ভরে স্বপ্ন নিয়ে দিন গুনছেন সুষ্ঠভাবে যেন মাঠের ফসল ঘরে তুলতে পারেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবারে ইরি বোরো মৌসুমে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ২০২২/ ২৩ অর্থ বছরে লক্ষমাত্রা ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর ৷ অর্জিত লক্ষমাত্রা ৩ হাজার ২৫০ হেক্টর, শতকরা অর্জন ১০৩% ৷ স্থানীয় জাত যেমন সাদা বোরো, কালি বোরো সর্বমোট ১ হাজার ২৬৫ হেক্টর চাষাবাদ হয়েছে ৷ এরমধ্যে প্রায় ৪০% স্থানীয় জাত কর্তনের অপেক্ষায় ৷ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন প্রতি বিঘায় ১২-১৪ মন ৷ উপশী জাত যেমন, ব্রিধান ২৮,২৯ এগুলো আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে কর্তন উপযোগী হবে ৷ ফলন প্রতি বিঘায় ২৪ মন হবে বলে আশা পোষণ করেন ৷
গভীর নলকূপের আওয়তায় সেচের পানি ব্যবহার করে চাষীরা সঠিক নিয়ম অনুসারে সেচে সুফল পাচ্ছেন। এছাড়া চলতি মৌসুমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং) এ তেমন কোন অভিযোগ বা ক্ষয়ক্ষতি নেই। তবে ইদানিং সেচ নিয়ে বিপাকে লোডশেডিং। কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দিয়ে কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে সরকারের নজর রয়েছে। এদিকে উপজেলার ডিলারদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমান তেল ও সার পাওয়ায় কৃষকরা অনেকটা আশ্বস্ত হয়েছে।
উপজেলার খাষপুকুরিয়া ইউনিয়নে বৈন্যা গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া বলেন আমি কৃষি অফিসের পরামর্শে ধানের আবাদ করে লাবভান হচ্ছি, আমার জমি থেকে বিঘা পতি ৩০ মন ধান উৎপাদন হয়েছে।
বৈন্যা ব্লগের কৃষক মো, ছারু মিয়া বলেন সরকারের তরফ থেকে বীজ,সার ও আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে মাঠ তৈরিতে সহযোগিতা করায় ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বলে তার মুখে হাসির জিলিক। কৃষক মো: ফজল জানান, অন্যান্য বারের তুলনায় এবারে আমরা অধিকহারে বোরো ধান চাষ করেছি। আশা করছি এবার বোরো ধানে বাম্পার ফলন হবে। এবার বড় ধরণের প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে বরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে আমরা অনেক উপকৃত হবো এবং বিগত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো বলে মনে করছি। তবে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের কষ্ট হচ্ছে। মোকার ভাঙ্গা কৃষক হরজ আলী বলেন এবার ধানে বাম্পার ফলন হবে বাকি সময়ে কোন সমস্যা না আসে,মোকার ভাঙ্গা ভরাট না থাকায় বহু মজিতে নদী থেকে বালু পরায় ধানের আবাদ করা সম্বাব হয়নি। আবাদ বারাতে আমরা ভাঙ্গা ভরাট এর দাবি জানাই।
উপজেলায় বিভিন্ন ইউপিতে দায়িত্বে থাকা উপসহকারী মোহাম্মদ আলী, মো: ছানোয়ার হোসেন, মোঃ আয়ুব আলী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ (কালবৈশাখি ঝড়) না হলে, এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে। এতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উচ্চ ফলনের প্রাপ্তির বিষয়ে চাষীদের নানা ভাবে কৃষি তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করে আসছি আমরা। আগাম ধানের চারা রোপন এলাকায় ২/১ সপ্তাহের মধ্যে ধান কর্তন আরম্ভ হবে। উপজেলায় পুরোদমে ধান কর্তনের ধূম পড়ে যাবে ৷
চৌহালী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষি বিদ মো: মাজেদুর রহমান বলেন, উপজেলায় এ বছর কোন শ্রমিক সংকট নেই ৷ উল্টো চৌহালী থেকে দেশের বিভিন্ন হাওড় অঞ্চলে ৩ হাজার শ্রমিক কৃষি বিভাগের উদ্যোগে পাঠানো হয়েছে ৷ তিনি আরো বলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠে থেকে কৃষকদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে ৷ আবহাওয়া অনুকুলে এবং শ্রমিক সংকট না থাকায় বরাবরের মত চৌহালীতে এবারও বাম্পার ফলন হবে ইনশাল্লাহ ৷
মাহমুদুল হাসান, চৌহালী (সিরাজগঞ্জের)
২৩ এপ্রিল, ২০২৩, 3:44 PM
এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায়। চৌহালী বন্যাদুর্গত ও দুর্গোম এলাকা হিসাবে এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার বোরো চাষ কে সৌভাগ্য হিসাবে মনে করছেন। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের কৃষি মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারহ। দিগন্তজুড়া সবুজের মাঠ আর সোনালী ধান দোল খাচ্ছে। কৃষি মাঠের দিকে তাকালে মন ভরে যায় এবং সবুজের সমারোহে চোখ জুড়িয়ে যায় যেনো। তাই ইরি বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের মুখে যেন হাসির ঝিলিক।
বর্তমানে উপজেলার প্রতিটি মাঠ কৃষকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। বড় ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিলে মাথায় হাত ছাড়া কোন উপায় থাকবে না বলে আলাপ চারিতায় চাষীরা প্রতিবেদক কে জানায়। চাষীরা বর্তমানে দু-নয়ন ভরে স্বপ্ন নিয়ে দিন গুনছেন সুষ্ঠভাবে যেন মাঠের ফসল ঘরে তুলতে পারেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবারে ইরি বোরো মৌসুমে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ২০২২/ ২৩ অর্থ বছরে লক্ষমাত্রা ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর ৷ অর্জিত লক্ষমাত্রা ৩ হাজার ২৫০ হেক্টর, শতকরা অর্জন ১০৩% ৷ স্থানীয় জাত যেমন সাদা বোরো, কালি বোরো সর্বমোট ১ হাজার ২৬৫ হেক্টর চাষাবাদ হয়েছে ৷ এরমধ্যে প্রায় ৪০% স্থানীয় জাত কর্তনের অপেক্ষায় ৷ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন প্রতি বিঘায় ১২-১৪ মন ৷ উপশী জাত যেমন, ব্রিধান ২৮,২৯ এগুলো আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে কর্তন উপযোগী হবে ৷ ফলন প্রতি বিঘায় ২৪ মন হবে বলে আশা পোষণ করেন ৷
গভীর নলকূপের আওয়তায় সেচের পানি ব্যবহার করে চাষীরা সঠিক নিয়ম অনুসারে সেচে সুফল পাচ্ছেন। এছাড়া চলতি মৌসুমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং) এ তেমন কোন অভিযোগ বা ক্ষয়ক্ষতি নেই। তবে ইদানিং সেচ নিয়ে বিপাকে লোডশেডিং। কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দিয়ে কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে সরকারের নজর রয়েছে। এদিকে উপজেলার ডিলারদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমান তেল ও সার পাওয়ায় কৃষকরা অনেকটা আশ্বস্ত হয়েছে।
উপজেলার খাষপুকুরিয়া ইউনিয়নে বৈন্যা গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া বলেন আমি কৃষি অফিসের পরামর্শে ধানের আবাদ করে লাবভান হচ্ছি, আমার জমি থেকে বিঘা পতি ৩০ মন ধান উৎপাদন হয়েছে।
বৈন্যা ব্লগের কৃষক মো, ছারু মিয়া বলেন সরকারের তরফ থেকে বীজ,সার ও আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে মাঠ তৈরিতে সহযোগিতা করায় ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বলে তার মুখে হাসির জিলিক। কৃষক মো: ফজল জানান, অন্যান্য বারের তুলনায় এবারে আমরা অধিকহারে বোরো ধান চাষ করেছি। আশা করছি এবার বোরো ধানে বাম্পার ফলন হবে। এবার বড় ধরণের প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে বরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে আমরা অনেক উপকৃত হবো এবং বিগত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো বলে মনে করছি। তবে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের কষ্ট হচ্ছে। মোকার ভাঙ্গা কৃষক হরজ আলী বলেন এবার ধানে বাম্পার ফলন হবে বাকি সময়ে কোন সমস্যা না আসে,মোকার ভাঙ্গা ভরাট না থাকায় বহু মজিতে নদী থেকে বালু পরায় ধানের আবাদ করা সম্বাব হয়নি। আবাদ বারাতে আমরা ভাঙ্গা ভরাট এর দাবি জানাই।
উপজেলায় বিভিন্ন ইউপিতে দায়িত্বে থাকা উপসহকারী মোহাম্মদ আলী, মো: ছানোয়ার হোসেন, মোঃ আয়ুব আলী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ (কালবৈশাখি ঝড়) না হলে, এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে। এতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উচ্চ ফলনের প্রাপ্তির বিষয়ে চাষীদের নানা ভাবে কৃষি তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করে আসছি আমরা। আগাম ধানের চারা রোপন এলাকায় ২/১ সপ্তাহের মধ্যে ধান কর্তন আরম্ভ হবে। উপজেলায় পুরোদমে ধান কর্তনের ধূম পড়ে যাবে ৷
চৌহালী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষি বিদ মো: মাজেদুর রহমান বলেন, উপজেলায় এ বছর কোন শ্রমিক সংকট নেই ৷ উল্টো চৌহালী থেকে দেশের বিভিন্ন হাওড় অঞ্চলে ৩ হাজার শ্রমিক কৃষি বিভাগের উদ্যোগে পাঠানো হয়েছে ৷ তিনি আরো বলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠে থেকে কৃষকদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে ৷ আবহাওয়া অনুকুলে এবং শ্রমিক সংকট না থাকায় বরাবরের মত চৌহালীতে এবারও বাম্পার ফলন হবে ইনশাল্লাহ ৷