শিরোনামঃ
নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে একনেক সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ১২ প্রকল্পের অনুমোদন  ইউরোপের পথে প্রতারণা, দালালের ফাঁদে স্বপ্ন এখন বন্দিশালা!  গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউপি ভোট ১২ নভেম্বর, সাত ধাপে নির্বাচন নভেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন লাইসেন্স ছাড়া করা যাবে না কোনো খাদ্য ব্যবসা ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে : ইসি আনোয়ারুল দীর্ঘ সময় এসি চালালে যেসব ভুল করবেন না আলোচনা-সমঝোতায় দেশকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

সৌদি নিয়ে বাইডেনের ইউটার্ন

#
news image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার নির্বাচনী প্রচারকালে সৌদি আরবকে 'অচ্ছুত' দেশে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দেশটির ভয়াবহ মানবাধিকার পরিস্থিতির কারণে তিনি এ অবস্থান নিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েও তিনি সৌদি আরব এবং দেশটির প্রকৃত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পরে নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবার ইউটার্ন নিয়েছেন। তিনি চলতি মাসের শেষ দিকে সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন। এ সময় তিনি যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকও করবেন। খবর নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের।
সৌদি আরব বাইডেনের দুই অগ্রাধিকার- তেল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে শান্তি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত কূটনৈতিক তৎপরতায় রিয়াদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গেছে, বাইডেন মধ্যপ্রাচ্য সফরকালে সৌদি আরবে যাত্রাবিরতি করবেন।
বৃহস্পতিবার এক অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় ওপেক এবং সহযোগী তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো জুলাই এবং আগস্ট মাসে প্রতিদিন দুই লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের ভূমিকার প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মধ্যপ্রাচ্য সফরকালে বাইডেনের গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের রিয়াদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই কাউন্সিলে সৌদি আরব ছাড়াও বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আছে। এ ছাড়া তিনি ইসরায়েল, মিসর, জর্ডান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্য আরব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে তার বৈঠক নিয়ে এরই মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারণ ২০১৮ সালে সৌদি ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাসোগিকে হত্যার জন্য যুবরাজকেই দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা।
দায়িত্ব নেওয়ার পর বাইডেন সৌদির আপত্তি সত্ত্বেও খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য বাইডেন কিছু সৌদি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছেন। কিন্তু তিনি অভিযুক্ত যুবরাজের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। সৌদি সরকার অবশ্য প্রথম থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুবরাজের কোনো ধরনের যোগসাজশের কথা অস্বীকার করে আসছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বাইডেনের সৌদি সফরের মাধ্যমে যুবরাজের কূটনৈতিক পুনর্বাসনের নিন্দা করেছে।
যুবরাজের প্রশংসায় হোয়াইট হাউস :এদিকে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পর সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারিন জ্যঁ-পিয়ের সাংবাদিকদের বলেছেন, ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকার জন্য সৌদি বাদশাহ ও তার ছেলে কৃতিত্বের দাবিদার। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলজুড়ে সহযোগিতামূলক কূটনীতি ছাড়া এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হতো না। যুদ্ধবিরতি সুসংহত করার সহায়তায় সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের নেতৃত্বের ভূমিকাটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

প্রভাতী খবর ডেস্ক

০৫ জুন, ২০২২,  12:26 AM

news image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার নির্বাচনী প্রচারকালে সৌদি আরবকে 'অচ্ছুত' দেশে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দেশটির ভয়াবহ মানবাধিকার পরিস্থিতির কারণে তিনি এ অবস্থান নিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েও তিনি সৌদি আরব এবং দেশটির প্রকৃত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পরে নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবার ইউটার্ন নিয়েছেন। তিনি চলতি মাসের শেষ দিকে সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন। এ সময় তিনি যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকও করবেন। খবর নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের।
সৌদি আরব বাইডেনের দুই অগ্রাধিকার- তেল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে শান্তি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত কূটনৈতিক তৎপরতায় রিয়াদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গেছে, বাইডেন মধ্যপ্রাচ্য সফরকালে সৌদি আরবে যাত্রাবিরতি করবেন।
বৃহস্পতিবার এক অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় ওপেক এবং সহযোগী তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো জুলাই এবং আগস্ট মাসে প্রতিদিন দুই লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের ভূমিকার প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মধ্যপ্রাচ্য সফরকালে বাইডেনের গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের রিয়াদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই কাউন্সিলে সৌদি আরব ছাড়াও বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আছে। এ ছাড়া তিনি ইসরায়েল, মিসর, জর্ডান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্য আরব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে তার বৈঠক নিয়ে এরই মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারণ ২০১৮ সালে সৌদি ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাসোগিকে হত্যার জন্য যুবরাজকেই দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা।
দায়িত্ব নেওয়ার পর বাইডেন সৌদির আপত্তি সত্ত্বেও খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য বাইডেন কিছু সৌদি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছেন। কিন্তু তিনি অভিযুক্ত যুবরাজের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। সৌদি সরকার অবশ্য প্রথম থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুবরাজের কোনো ধরনের যোগসাজশের কথা অস্বীকার করে আসছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বাইডেনের সৌদি সফরের মাধ্যমে যুবরাজের কূটনৈতিক পুনর্বাসনের নিন্দা করেছে।
যুবরাজের প্রশংসায় হোয়াইট হাউস :এদিকে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পর সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারিন জ্যঁ-পিয়ের সাংবাদিকদের বলেছেন, ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকার জন্য সৌদি বাদশাহ ও তার ছেলে কৃতিত্বের দাবিদার। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলজুড়ে সহযোগিতামূলক কূটনীতি ছাড়া এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হতো না। যুদ্ধবিরতি সুসংহত করার সহায়তায় সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের নেতৃত্বের ভূমিকাটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়।