শিরোনামঃ
ভয় নয়-সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান: জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশ্যে তারেক রহমানের নির্বাচনী ভাষণের পূর্ণবিবরণী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে দেশ পাল্টে যাবে, আর অপশাসন ফিরবে না: প্রধান উপদেষ্টা ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক ঘটনাবলির সালতামামি খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বনেতাদের সমাগম  খালেদা জিয়ার জানাজায় স্মরণকালের রেকর্ড মানুষের অংশগ্রহণ তারেক রহমান নিজ হাতে মাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করলেন  পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হলফনামায় তারেক রহমানের সম্পদ প্রায় ২ কোটি টাকা সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

বায়ু ও শব্দদূষণ থেকে পরিত্রাণ জরুরি

#
news image

রাজধানী ঢাকায় বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ যে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রাপ্ত এ তথ্য সম্পর্কে আমরা অবগত। এবার ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম নামে একটি জোটের গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ঢাকায় সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ হয় শাহবাগ এলাকায়, আর শব্দদূষণের শীর্ষে রয়েছে গুলশান-২ এলাকা। উল্লেখ্য, প্রতিবেদনটি তৈরিকারী এ জোটের অর্থায়নে রয়েছে ইউএসএআইডি, সহায়তায় কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনাল। এ জোটে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ এবং স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্র (ক্যাপস)। 
তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুমান সূচক অনুযায়ী ঢাকা নগরীর ১০টি স্থানের অবস্থা ‘অস্বাস্থকর’। এসব স্থানের বাতাসে পিএম ২.৫-এর গড় বার্ষিক উপস্থিতি আদর্শ মানের (১৫ মাইক্রোগ্রাম) চেয়ে ৫.১ গুণ বেশি। আর পিএম ১০-এর গড় বার্ষিক উপস্থিতি আদর্শ মানের (৫০ মাইক্রোগ্রাম) চেয়ে ২.১ গুণ বেশি। শাহবাগ এলাকায় পিএম ২.৫-এর গড় উপস্থিতি আদর্শ মান থেকে ৫.৬ গুণ বেশি। 
ইতোপূর্বে আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর শহরগুলোর মধ্যে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান একেবারে শীর্ষপর্যায়ে। শুধু ঢাকা শহর নয়, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক দূষণ প্রযুক্তি সংস্থা আইকিউএয়ারের ২০২১ সালের তালিকায় টানা চতুর্থবারের মতো পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত দেশের তকমা পায় বাংলাদেশ। 
অন্যদিকে, শব্দদূষণের বিষয়ে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরের ১০টি এলাকার মধ্যে গুলশান-২-এ শব্দের সর্বোচ্চ মান এলইকিউ ৯৫.৪৪ ডেসিবল, যা মিশ্র এলাকার জন্য দিনের বেলার জাতীয় আদর্শ মান (৫৫ ডেসিবল) থেকে ১.৭ গুণ বেশি। ইতঃপূরবে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি ফ্রন্টিয়ারস ২০২২ : নয়েজ, ব্লেজেস অ্যান্ড মিসম্যাচেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার শব্দদূষণ বিশ্বের যে কোনো শহরের চেয়ে বেশি। এ নগরীর শব্দের সর্বোচ্চ তীব্রতার মাত্রা ১১৯ ডেসিবল। 
উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার ২০১৮ সালের গাইডলাইনে সড়কে শব্দের তীব্রতা ৫৩ ডেসিবলের মধ্যে সীমিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এ হিসাবে ঢাকার বাসিন্দাদের পথে চলতে গিয়ে জাতিসংঘের বেঁধে দেওয়া সীমার দ্বিগুণেরও বেশি মাত্রার শব্দের অত্যাচার সহ্য করতে হয়। 
বলার অপেক্ষা রাখে না, ঘনবসতি, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, কখনো বা গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব ইত্যাদির পাশাপাশি বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের অতি উচ্চমাত্রা রাজধানী ঢাকার বসবাসযোগ্যতাকে সংকটের মধ্যে ফেলেছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ জরুরি। বিশেষ করে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিধায় এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

প্রভাতী খবর ডেস্ক

০২ জুন, ২০২২,  9:56 PM

news image

রাজধানী ঢাকায় বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ যে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রাপ্ত এ তথ্য সম্পর্কে আমরা অবগত। এবার ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম নামে একটি জোটের গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ঢাকায় সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ হয় শাহবাগ এলাকায়, আর শব্দদূষণের শীর্ষে রয়েছে গুলশান-২ এলাকা। উল্লেখ্য, প্রতিবেদনটি তৈরিকারী এ জোটের অর্থায়নে রয়েছে ইউএসএআইডি, সহায়তায় কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনাল। এ জোটে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ এবং স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্র (ক্যাপস)। 
তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুমান সূচক অনুযায়ী ঢাকা নগরীর ১০টি স্থানের অবস্থা ‘অস্বাস্থকর’। এসব স্থানের বাতাসে পিএম ২.৫-এর গড় বার্ষিক উপস্থিতি আদর্শ মানের (১৫ মাইক্রোগ্রাম) চেয়ে ৫.১ গুণ বেশি। আর পিএম ১০-এর গড় বার্ষিক উপস্থিতি আদর্শ মানের (৫০ মাইক্রোগ্রাম) চেয়ে ২.১ গুণ বেশি। শাহবাগ এলাকায় পিএম ২.৫-এর গড় উপস্থিতি আদর্শ মান থেকে ৫.৬ গুণ বেশি। 
ইতোপূর্বে আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর শহরগুলোর মধ্যে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান একেবারে শীর্ষপর্যায়ে। শুধু ঢাকা শহর নয়, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক দূষণ প্রযুক্তি সংস্থা আইকিউএয়ারের ২০২১ সালের তালিকায় টানা চতুর্থবারের মতো পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত দেশের তকমা পায় বাংলাদেশ। 
অন্যদিকে, শব্দদূষণের বিষয়ে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরের ১০টি এলাকার মধ্যে গুলশান-২-এ শব্দের সর্বোচ্চ মান এলইকিউ ৯৫.৪৪ ডেসিবল, যা মিশ্র এলাকার জন্য দিনের বেলার জাতীয় আদর্শ মান (৫৫ ডেসিবল) থেকে ১.৭ গুণ বেশি। ইতঃপূরবে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি ফ্রন্টিয়ারস ২০২২ : নয়েজ, ব্লেজেস অ্যান্ড মিসম্যাচেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার শব্দদূষণ বিশ্বের যে কোনো শহরের চেয়ে বেশি। এ নগরীর শব্দের সর্বোচ্চ তীব্রতার মাত্রা ১১৯ ডেসিবল। 
উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার ২০১৮ সালের গাইডলাইনে সড়কে শব্দের তীব্রতা ৫৩ ডেসিবলের মধ্যে সীমিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এ হিসাবে ঢাকার বাসিন্দাদের পথে চলতে গিয়ে জাতিসংঘের বেঁধে দেওয়া সীমার দ্বিগুণেরও বেশি মাত্রার শব্দের অত্যাচার সহ্য করতে হয়। 
বলার অপেক্ষা রাখে না, ঘনবসতি, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, কখনো বা গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব ইত্যাদির পাশাপাশি বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের অতি উচ্চমাত্রা রাজধানী ঢাকার বসবাসযোগ্যতাকে সংকটের মধ্যে ফেলেছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ জরুরি। বিশেষ করে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিধায় এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।