শিরোনামঃ
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে একনেক সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ১২ প্রকল্পের অনুমোদন  ইউরোপের পথে প্রতারণা, দালালের ফাঁদে স্বপ্ন এখন বন্দিশালা!  গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউপি ভোট ১২ নভেম্বর, সাত ধাপে নির্বাচন নভেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন লাইসেন্স ছাড়া করা যাবে না কোনো খাদ্য ব্যবসা ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে : ইসি আনোয়ারুল দীর্ঘ সময় এসি চালালে যেসব ভুল করবেন না

নান্দাইলে আবাসন প্রকল্পের বেহাল দশা, উন্নয়ন ও সংস্কারের দাবী

#
news image

ময়নসিংহের নান্দাইল উপজেলার ১১নং খারুয়া ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে ১৫ই জানুয়ারি ২০০৪ সনে ২৪০টি ঘর নিয়ে স্থাপিত হয়েছিল মহেশপুর আবাসন প্রকল্প। সরকারি খাস জায়গায় মাটির ভিটেতে টিনের বেড়া ও টিনশেডের সারিসারি ঘরে অনেক স্বপ্ন নিয়ে সুখের নীড় বেধেছিল বাস্তুহারা আবাসনের মানুষগুলো। জীবন সংগ্রামে দিনভর কায়িক পরিশ্রম শেষে মোটা চালের মোটা ভাত আর ডাল-মাছ খেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে নিদ্রা যেতো। কিন্তুু সেই সুখ হারিয়ে গেলো ঘরের বেড়া ও টিনশেডে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাওয়ায়। একটু বৃষ্টি হলেও ছোট্ট শিশু ও বৃদ্ধ সদস্যদেরকে নিয়ে ঘরের এক কোণায় ঘুটিয়ে বসে থাকতে হয়।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি রুখতে ভাঙ্গা ও ফুটো টিনের চালার উপর পলিথিন কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে। পলিথিনের উপর ইট বেধে রাখা হয়েছে যাতে তা ঝড়ে উড়ে না যায়। অন্যথায় বৃষ্টির পানিতে মানুষগুলোর জামা-কাপড় ও বিছানাপত্র সব ভিজে একাকার হয়ে যায়। এছাড়া স্বাস্থ্য সম্মত ল্যাট্টিন ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে আবাসনে থাকা মানুষগুলোর স্বাস্থ্য সমস্যা সহ নানাবিধ দূর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেকেই ভাঙ্গা ঘরে থাকতে না পেরে ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। মানুষ না থাকায় সেখানে জুয়া ও মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

আবাসন স্থাপনা নির্মাণের ২২টি বছর পার হয়ে গেলেও এর কোন সংস্কার বা উন্নয়ন হতে দেখা যায়নি। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্যকর্মকর্তা সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাগণ এখন আর আবাসনে তাদের দেখা মিলে না। মানুষগুলো সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ দুটি ঈদ উৎসব আসলে নাম মাত্র কিছু লোককে ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দিয়ে থাকেন। অপরদিকে আবাসনে বেড়ে উঠা শিশু-কিশোররা শিক্ষার আলো পেতে জীবনের ঝুঁিক নিয়ে অনেক দূরে স্কুলে যেতে হয়। আবাসনের যাবার রাস্তারও বেহাল দশা। বর্ষাকলে রাস্তার জন্য তাদের কষ্ট করতে হয়।

আবাসনের সাবেক সভাপতি সাদেক মিয়া ও সদস্য দীপা আক্তার বলেন, নতুন করে ঘর নির্মাণ সহ আবাসনের স্থানে সরকারিভাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং আবাসনের নারী-পুরুষদের জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করলে মানুষগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞ থাকবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসনাত মিন্টু বলেন, ঘরের অবস্থা সম্পর্কে আমি একাধিকবার প্রতিবেদন দিয়েছি। এছাড়া আমার পরিষদ থেকে যথাসাধ্য সম্ভব সরকারি-সুযোগ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছি। প্রতি ঈদের তাদের জন্য ৮০টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দিয়ে থাকি।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল মনসুর বলেন, মহেশপুর আবাসনের ব্যাপারে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। যাতে দ্রুত সংস্কার করা হয়। এছাড়া তারা যেন অন্যান্য সুবিধা পায় সেজন্য দৃষ্টি থাকবে।

মোঃ শাহজাহান ফকির, নান্দাই, (ময়মনসিংহ)

১০ এপ্রিল, ২০২৩,  7:13 PM

news image

ময়নসিংহের নান্দাইল উপজেলার ১১নং খারুয়া ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে ১৫ই জানুয়ারি ২০০৪ সনে ২৪০টি ঘর নিয়ে স্থাপিত হয়েছিল মহেশপুর আবাসন প্রকল্প। সরকারি খাস জায়গায় মাটির ভিটেতে টিনের বেড়া ও টিনশেডের সারিসারি ঘরে অনেক স্বপ্ন নিয়ে সুখের নীড় বেধেছিল বাস্তুহারা আবাসনের মানুষগুলো। জীবন সংগ্রামে দিনভর কায়িক পরিশ্রম শেষে মোটা চালের মোটা ভাত আর ডাল-মাছ খেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে নিদ্রা যেতো। কিন্তুু সেই সুখ হারিয়ে গেলো ঘরের বেড়া ও টিনশেডে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাওয়ায়। একটু বৃষ্টি হলেও ছোট্ট শিশু ও বৃদ্ধ সদস্যদেরকে নিয়ে ঘরের এক কোণায় ঘুটিয়ে বসে থাকতে হয়।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি রুখতে ভাঙ্গা ও ফুটো টিনের চালার উপর পলিথিন কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে। পলিথিনের উপর ইট বেধে রাখা হয়েছে যাতে তা ঝড়ে উড়ে না যায়। অন্যথায় বৃষ্টির পানিতে মানুষগুলোর জামা-কাপড় ও বিছানাপত্র সব ভিজে একাকার হয়ে যায়। এছাড়া স্বাস্থ্য সম্মত ল্যাট্টিন ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে আবাসনে থাকা মানুষগুলোর স্বাস্থ্য সমস্যা সহ নানাবিধ দূর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেকেই ভাঙ্গা ঘরে থাকতে না পেরে ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। মানুষ না থাকায় সেখানে জুয়া ও মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

আবাসন স্থাপনা নির্মাণের ২২টি বছর পার হয়ে গেলেও এর কোন সংস্কার বা উন্নয়ন হতে দেখা যায়নি। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্যকর্মকর্তা সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাগণ এখন আর আবাসনে তাদের দেখা মিলে না। মানুষগুলো সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ দুটি ঈদ উৎসব আসলে নাম মাত্র কিছু লোককে ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দিয়ে থাকেন। অপরদিকে আবাসনে বেড়ে উঠা শিশু-কিশোররা শিক্ষার আলো পেতে জীবনের ঝুঁিক নিয়ে অনেক দূরে স্কুলে যেতে হয়। আবাসনের যাবার রাস্তারও বেহাল দশা। বর্ষাকলে রাস্তার জন্য তাদের কষ্ট করতে হয়।

আবাসনের সাবেক সভাপতি সাদেক মিয়া ও সদস্য দীপা আক্তার বলেন, নতুন করে ঘর নির্মাণ সহ আবাসনের স্থানে সরকারিভাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং আবাসনের নারী-পুরুষদের জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করলে মানুষগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞ থাকবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসনাত মিন্টু বলেন, ঘরের অবস্থা সম্পর্কে আমি একাধিকবার প্রতিবেদন দিয়েছি। এছাড়া আমার পরিষদ থেকে যথাসাধ্য সম্ভব সরকারি-সুযোগ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছি। প্রতি ঈদের তাদের জন্য ৮০টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দিয়ে থাকি।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল মনসুর বলেন, মহেশপুর আবাসনের ব্যাপারে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। যাতে দ্রুত সংস্কার করা হয়। এছাড়া তারা যেন অন্যান্য সুবিধা পায় সেজন্য দৃষ্টি থাকবে।