শিরোনামঃ
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে একনেক সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ১২ প্রকল্পের অনুমোদন  ইউরোপের পথে প্রতারণা, দালালের ফাঁদে স্বপ্ন এখন বন্দিশালা!  গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউপি ভোট ১২ নভেম্বর, সাত ধাপে নির্বাচন নভেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন লাইসেন্স ছাড়া করা যাবে না কোনো খাদ্য ব্যবসা ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে : ইসি আনোয়ারুল দীর্ঘ সময় এসি চালালে যেসব ভুল করবেন না

নওগাঁয় র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদ অন্তে ভূমি উন্নয়ন কর্মচারীর ষ্ট্রোক করে মৃত্যু,নির্যাতনের অভিযোগ স্বজনদের

#
news image

নওগাঁয় র‍্যাব হেফাজতে সুলতানা জেসমিন (৪৫) নামে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবী, র‍্যাবের নির্যাতনের কারণে মৃত্যু হয়েছে সুলতানা জেসমিনের। গত বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় এলাকা থেকে সুলতানা জেসমিনকে আটকের পর শুক্রবার (২৪ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। সুলতানা জেসমিন নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অফিস সহকারী পদে কর্মরত ছিলেন।

র‌্যাব বলছে, সুলতানা জেসমিনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছিল।

নিহত সুলতানা জেসমিনের আপন মামা ও নওগাঁ পৌরসভার ০৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নাজমুল হক (মন্টু) বলেন, আমার ভাগনি বুধবার সকালে অফিস করার জন্য বাসা থেকে বের হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুক্তির মোড় থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে র‌্যাবের পোশাক পরা লোকজন তাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে কোন র‌্যাব ক্যাম্প নেওয়া হলো এ ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করতে থাকি। দুপুর ১২টার পর জানতে পারি, সুলতানা জেসমিন শাহিদা নওগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে গিয়ে দেখি র‌্যাবের লোকজন। ভাগনি কোনো কথাবার্তা বলতে পারছে না। এরপর কিছুক্ষণ পর তাকে রাজশাহী হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার সকালে মৃত্যু হলেও লাশ হস্তান্তর করা হয়  গতকাল শনিবার (২৫ মার্চ) দুপুরের পর। তিনি আরও বলেন, সুলতানার সঙ্গে তার স্বামীর ছাড়াছাড়ি হয় ১৭ বছর আগে। এরপর সে তার এক সন্তানকে অত্যন্ত কষ্ট করে অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে লালন-পালন করে আসছিল। নওগাঁ শহরের জনকল্যাণ এলাকায় একটা ভাড়া বাড়িতে থেকে ছেলেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করাচ্ছে। সে ভূমি অফিসের একজন সামান্য কর্মচারী। কোনো দিন তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ কেউ করতে পারেনি। সুলতানার ছেলে শাহেদ হোসেন সৈকত বলেন, আমার মা চক্রান্তের শিকার হয়েছে। র‌্যাবের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এফ এম শামীম আহাম্মদ জানান, র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই নারী পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান বলে জানতে পেরেছেন তারা। পরে তাকে নওগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। সিটি স্ক্যান করে জানা যায়, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তার মাথায় ছোট্ট একটি লাল দাগ ছিল। তবে শরীরে কোথাও আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না।

রাজশাহী র‌্যাব-৫ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর নাজমুস সাকিব বলেন, সুলতানা জেসমিন শাহিদার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার একটি অভিযোগ পাই। তার ব্যাংক হিসেবে অস্বাভাবিক টাকা লেনদেনের অভিযোগ ছিল। পরে তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে আমরা এর সত্যতা পাই। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় এলাকা থেকে র‌্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়। আটকের পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তৎক্ষণাৎ তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা তাকে রাজশাহী নেওয়ার পরামর্শ নেন। এরপর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয় এবং গত শুক্রবার স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল শনিবার দুপুরে স্বজনদের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হয়l র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আটকের পর ওই নারীকে র‌্যাবের কোনো ক্যাম্পে নেওয়া হয়নি। আটকের পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই তার পরিবারের লোকজন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সঙ্গেই ছিলেন। নির্যাতনের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, এটা সঠিক নয়।

সাইফুল ওয়াদুদ, নওগাঁ

২৭ মার্চ, ২০২৩,  10:31 AM

news image

নওগাঁয় র‍্যাব হেফাজতে সুলতানা জেসমিন (৪৫) নামে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবী, র‍্যাবের নির্যাতনের কারণে মৃত্যু হয়েছে সুলতানা জেসমিনের। গত বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় এলাকা থেকে সুলতানা জেসমিনকে আটকের পর শুক্রবার (২৪ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। সুলতানা জেসমিন নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অফিস সহকারী পদে কর্মরত ছিলেন।

র‌্যাব বলছে, সুলতানা জেসমিনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছিল।

নিহত সুলতানা জেসমিনের আপন মামা ও নওগাঁ পৌরসভার ০৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নাজমুল হক (মন্টু) বলেন, আমার ভাগনি বুধবার সকালে অফিস করার জন্য বাসা থেকে বের হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুক্তির মোড় থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে র‌্যাবের পোশাক পরা লোকজন তাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে কোন র‌্যাব ক্যাম্প নেওয়া হলো এ ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করতে থাকি। দুপুর ১২টার পর জানতে পারি, সুলতানা জেসমিন শাহিদা নওগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে গিয়ে দেখি র‌্যাবের লোকজন। ভাগনি কোনো কথাবার্তা বলতে পারছে না। এরপর কিছুক্ষণ পর তাকে রাজশাহী হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার সকালে মৃত্যু হলেও লাশ হস্তান্তর করা হয়  গতকাল শনিবার (২৫ মার্চ) দুপুরের পর। তিনি আরও বলেন, সুলতানার সঙ্গে তার স্বামীর ছাড়াছাড়ি হয় ১৭ বছর আগে। এরপর সে তার এক সন্তানকে অত্যন্ত কষ্ট করে অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে লালন-পালন করে আসছিল। নওগাঁ শহরের জনকল্যাণ এলাকায় একটা ভাড়া বাড়িতে থেকে ছেলেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করাচ্ছে। সে ভূমি অফিসের একজন সামান্য কর্মচারী। কোনো দিন তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ কেউ করতে পারেনি। সুলতানার ছেলে শাহেদ হোসেন সৈকত বলেন, আমার মা চক্রান্তের শিকার হয়েছে। র‌্যাবের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এফ এম শামীম আহাম্মদ জানান, র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই নারী পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান বলে জানতে পেরেছেন তারা। পরে তাকে নওগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। সিটি স্ক্যান করে জানা যায়, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তার মাথায় ছোট্ট একটি লাল দাগ ছিল। তবে শরীরে কোথাও আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না।

রাজশাহী র‌্যাব-৫ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর নাজমুস সাকিব বলেন, সুলতানা জেসমিন শাহিদার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার একটি অভিযোগ পাই। তার ব্যাংক হিসেবে অস্বাভাবিক টাকা লেনদেনের অভিযোগ ছিল। পরে তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে আমরা এর সত্যতা পাই। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় এলাকা থেকে র‌্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়। আটকের পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তৎক্ষণাৎ তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা তাকে রাজশাহী নেওয়ার পরামর্শ নেন। এরপর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয় এবং গত শুক্রবার স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল শনিবার দুপুরে স্বজনদের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হয়l র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আটকের পর ওই নারীকে র‌্যাবের কোনো ক্যাম্পে নেওয়া হয়নি। আটকের পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই তার পরিবারের লোকজন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সঙ্গেই ছিলেন। নির্যাতনের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, এটা সঠিক নয়।