শিরোনামঃ
নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে একনেক সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ১২ প্রকল্পের অনুমোদন  ইউরোপের পথে প্রতারণা, দালালের ফাঁদে স্বপ্ন এখন বন্দিশালা!  গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউপি ভোট ১২ নভেম্বর, সাত ধাপে নির্বাচন নভেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন লাইসেন্স ছাড়া করা যাবে না কোনো খাদ্য ব্যবসা ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে : ইসি আনোয়ারুল দীর্ঘ সময় এসি চালালে যেসব ভুল করবেন না আলোচনা-সমঝোতায় দেশকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

রাশিয়ার রমরমা তেল বাণিজ্য, আমদানি দ্বিগুণ করেছে তুরস্ক

#
news image

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের একের পর এক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চলতি বছর রাশিয়া থেকে তেল আমদানি দ্বিগুণ করেছে তুরস্ক। সোমবার রিফিনিটিভ ইকনের তথ্য-উপাত্তে দুই দেশের জ্বালানি বাণিজ্যের রমরমা এই চিত্র দেখা গেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখেও ব্যবসা এবং জ্বালানির বাণিজ্যে বিস্তৃত সহযোগিতার জন্য দেশ দুটি প্রস্তুত রয়েছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়ার সৈন্যরা। এর পর থেকে পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি মস্কো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় বাণিজ্যিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে রাশিয়ায়। এই শূন্যতা পূরণে তুরস্কের কোম্পানিগুলো বসন্তের পর থেকে রাশিয়ার সাথে বাণিজ্য ব্যাপক বৃদ্ধি করেছে।

রিফিনিটিভ ইকনের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে ইউরাল এবং সাইবেরিয়ান লাইট গ্রেডসহ অন্যান্য তেলের আমদানি বাড়িয়েছে তুরস্ক। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত প্রতি দিন ২ লাখ ব্যারেলের বেশি রাশিয়ান তেল আমদানি করছে দেশটি। গত বছরের এই সময়ে রাশিয়া থেকে তুরস্কের দৈনিক তেল আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৯৮ হাজার ব্যারেল।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের দায়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয়নি তুরস্ক। আঙ্কারা বলছে, তারা রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

চলতি মাসের শুরুর দিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সাক্ষাৎ হয়। ওই সময় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে সম্মত হন তারা।

রিফিনিটিভ ইকনের পরিসংখ্যান বলছে, তুরস্কের প্রধান শোধনাগার তুপ্রাস এবং আজারবাইজানের শোধনাগার সোকার স্টার এ বছর রাশিয়ান ইউরাল এবং সাইবেরিয়ান লাইট তেলের আমদানি ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি করেছে। এর বিপরীতে উত্তর সাগর, ইরাকি এবং পশ্চিম আফ্রিকান গ্রেডের তেলের ক্রয় কমিয়ে ফেলেছে তারা।

গত কয়েক বছর ধরে স্টার শোধনাগার নরওয়ের জোহান সারড্রুপ এবং ইরাকি গ্রেডের তেলের ক্রয় বৃদ্ধি করেছে। রাশিয়ার তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আজারি এই কোম্পানি ইউরালের কাছাকাছি মানের তেলের আমদানি বাড়িয়েছে।

ব্রেন্ট বেঞ্চমার্কে চলতি বছর রাশিয়ান তেলের দাম ঐতিহাসিক সর্বনিম্নে নেমেছে। অন্যদিকে, উত্তর সাগর এবং ইরাকি গ্রেডের তেলের  দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। রিফিনিটিভ ইকনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্টার শোধনাগার চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দৈনিক ৯০ হাজার ব্যারেল রাশিয়ান তেল ক্রয় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল দৈনিক মাত্র ৪৮ হাজার ব্যারেল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তুরস্কের প্রধান শোধনাগার তুপ্রাস চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দিনে এক লাখ ১১ হাজার ব্যারেল তেল কিনবে; যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪৫ হাজার ব্যারেল। ভূমধ্যসাগরীয় তেলের বাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেছেন, ‌তুরস্কের শোধনাগার কোম্পানিগুলোর রাশিয়ার তেল কেনায় কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। যে কারণে তারা রাশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এই ব্যবসায়ী।

প্রভাতী খবর ডেস্ক

২৩ আগস্ট, ২০২২,  12:23 AM

news image

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের একের পর এক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চলতি বছর রাশিয়া থেকে তেল আমদানি দ্বিগুণ করেছে তুরস্ক। সোমবার রিফিনিটিভ ইকনের তথ্য-উপাত্তে দুই দেশের জ্বালানি বাণিজ্যের রমরমা এই চিত্র দেখা গেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখেও ব্যবসা এবং জ্বালানির বাণিজ্যে বিস্তৃত সহযোগিতার জন্য দেশ দুটি প্রস্তুত রয়েছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়ার সৈন্যরা। এর পর থেকে পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি মস্কো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় বাণিজ্যিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে রাশিয়ায়। এই শূন্যতা পূরণে তুরস্কের কোম্পানিগুলো বসন্তের পর থেকে রাশিয়ার সাথে বাণিজ্য ব্যাপক বৃদ্ধি করেছে।

রিফিনিটিভ ইকনের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে ইউরাল এবং সাইবেরিয়ান লাইট গ্রেডসহ অন্যান্য তেলের আমদানি বাড়িয়েছে তুরস্ক। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত প্রতি দিন ২ লাখ ব্যারেলের বেশি রাশিয়ান তেল আমদানি করছে দেশটি। গত বছরের এই সময়ে রাশিয়া থেকে তুরস্কের দৈনিক তেল আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৯৮ হাজার ব্যারেল।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের দায়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয়নি তুরস্ক। আঙ্কারা বলছে, তারা রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

চলতি মাসের শুরুর দিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সাক্ষাৎ হয়। ওই সময় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে সম্মত হন তারা।

রিফিনিটিভ ইকনের পরিসংখ্যান বলছে, তুরস্কের প্রধান শোধনাগার তুপ্রাস এবং আজারবাইজানের শোধনাগার সোকার স্টার এ বছর রাশিয়ান ইউরাল এবং সাইবেরিয়ান লাইট তেলের আমদানি ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি করেছে। এর বিপরীতে উত্তর সাগর, ইরাকি এবং পশ্চিম আফ্রিকান গ্রেডের তেলের ক্রয় কমিয়ে ফেলেছে তারা।

গত কয়েক বছর ধরে স্টার শোধনাগার নরওয়ের জোহান সারড্রুপ এবং ইরাকি গ্রেডের তেলের ক্রয় বৃদ্ধি করেছে। রাশিয়ার তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আজারি এই কোম্পানি ইউরালের কাছাকাছি মানের তেলের আমদানি বাড়িয়েছে।

ব্রেন্ট বেঞ্চমার্কে চলতি বছর রাশিয়ান তেলের দাম ঐতিহাসিক সর্বনিম্নে নেমেছে। অন্যদিকে, উত্তর সাগর এবং ইরাকি গ্রেডের তেলের  দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। রিফিনিটিভ ইকনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্টার শোধনাগার চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দৈনিক ৯০ হাজার ব্যারেল রাশিয়ান তেল ক্রয় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল দৈনিক মাত্র ৪৮ হাজার ব্যারেল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তুরস্কের প্রধান শোধনাগার তুপ্রাস চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দিনে এক লাখ ১১ হাজার ব্যারেল তেল কিনবে; যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪৫ হাজার ব্যারেল। ভূমধ্যসাগরীয় তেলের বাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেছেন, ‌তুরস্কের শোধনাগার কোম্পানিগুলোর রাশিয়ার তেল কেনায় কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। যে কারণে তারা রাশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এই ব্যবসায়ী।