উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানে মার্কিন হামলার পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
০৩ এপ্রিল, ২০২৫, 8:09 PM

উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানে মার্কিন হামলার পরিকল্পনা
৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান বাহিনীর সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশসীমা এবং সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মার্কিন কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর কঠোর অবস্থান
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য তাদের আকাশসীমা কিংবা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। এই নিষেধাজ্ঞা জ্বালানি ভরার এবং উদ্ধার অভিযানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক কর্মকর্তা জানান, "তারা চায় না এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে।" বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরান তার কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।
ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নজর
উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভারত মহাসাগরের কৌশলগত ঘাঁটি, ডিয়েগো গার্সিয়ার দিকে ঝুঁকছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে সেখানে বি-২ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে, যা ৩০,০০০ পাউন্ডের বাংকার-বাস্টার বোমা বহন করতে সক্ষম। এই বোমাগুলো ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে।
১৯৯০-এর দশকে ইরাকে হামলার সময় সৌদি আরব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে, যুক্তরাষ্ট্র একই ঘাঁটি ব্যবহার করেছিল। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে পাঁচটি বি-২ বোমারু বিমান রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডিয়েগো গার্সিয়ার ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে পারবে, যা ওই দেশগুলোর ওপর ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার সম্ভাবনাও কমাবে।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ইরান ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল উপসাগরীয় দেশগুলোর সহায়তায় তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তাহলে তারা সেই দেশগুলোর তেল স্থাপনাগুলিতে পাল্টা হামলা চালাবে। ইরান দাবি করেছে যে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসীমা ২০০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, তারা হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে অথবা সমুদ্র থেকে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
গাজা যুদ্ধের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক কার্গো ফ্লাইটের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ৪০,০০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, যাদের মধ্যে অনেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থান করছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধফরা বিমান ঘাঁটি, কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এই মোতায়েনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ট্রাম্পের হুমকি ও সম্ভাব্য পরিণতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, যদি ইরান নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে "এমন বোমা হামলা চালানো হবে যা তারা আগে কখনও দেখেনি।" জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজও বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে চায়।
তবে, বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে একটি ব্যাপক সংঘাতের সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়া এবং চীন ইরানের পক্ষে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
অনলাইন ডেস্ক
০৩ এপ্রিল, ২০২৫, 8:09 PM

৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান বাহিনীর সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশসীমা এবং সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মার্কিন কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর কঠোর অবস্থান
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য তাদের আকাশসীমা কিংবা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। এই নিষেধাজ্ঞা জ্বালানি ভরার এবং উদ্ধার অভিযানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক কর্মকর্তা জানান, "তারা চায় না এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে।" বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরান তার কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।
ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নজর
উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভারত মহাসাগরের কৌশলগত ঘাঁটি, ডিয়েগো গার্সিয়ার দিকে ঝুঁকছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে সেখানে বি-২ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে, যা ৩০,০০০ পাউন্ডের বাংকার-বাস্টার বোমা বহন করতে সক্ষম। এই বোমাগুলো ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে।
১৯৯০-এর দশকে ইরাকে হামলার সময় সৌদি আরব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে, যুক্তরাষ্ট্র একই ঘাঁটি ব্যবহার করেছিল। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে পাঁচটি বি-২ বোমারু বিমান রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডিয়েগো গার্সিয়ার ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে পারবে, যা ওই দেশগুলোর ওপর ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার সম্ভাবনাও কমাবে।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ইরান ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল উপসাগরীয় দেশগুলোর সহায়তায় তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তাহলে তারা সেই দেশগুলোর তেল স্থাপনাগুলিতে পাল্টা হামলা চালাবে। ইরান দাবি করেছে যে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসীমা ২০০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, তারা হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে অথবা সমুদ্র থেকে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
গাজা যুদ্ধের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক কার্গো ফ্লাইটের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ৪০,০০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, যাদের মধ্যে অনেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থান করছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধফরা বিমান ঘাঁটি, কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এই মোতায়েনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ট্রাম্পের হুমকি ও সম্ভাব্য পরিণতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, যদি ইরান নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে "এমন বোমা হামলা চালানো হবে যা তারা আগে কখনও দেখেনি।" জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজও বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে চায়।
তবে, বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে একটি ব্যাপক সংঘাতের সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়া এবং চীন ইরানের পক্ষে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।