শিরোনামঃ
ভয় নয়-সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান: জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশ্যে তারেক রহমানের নির্বাচনী ভাষণের পূর্ণবিবরণী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে দেশ পাল্টে যাবে, আর অপশাসন ফিরবে না: প্রধান উপদেষ্টা ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক ঘটনাবলির সালতামামি খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বনেতাদের সমাগম  খালেদা জিয়ার জানাজায় স্মরণকালের রেকর্ড মানুষের অংশগ্রহণ তারেক রহমান নিজ হাতে মাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করলেন  পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হলফনামায় তারেক রহমানের সম্পদ প্রায় ২ কোটি টাকা সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

দুই যুগ ধরে উৎপাদন বন্ধ, নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ

#
news image

অব্যবস্থাপনা আর সংস্কারের অভাবে রাজবাড়ীর একমাত্র সরকারি হাঁস-মুরগির খামারের বেহাল দশা। প্রায় দুই যুগ ধরে এ খামারে বন্ধ রয়েছে হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন। এছাড়া জরাজীর্ণ শেডসহ রয়েছে জনবলের তীব্র সংকট। ফলে কয়েক কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অন্যদিকে খামারটি দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। সরেজমিনে দেখা যায়, চারপাশে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা খামারের মূল ফটক দিয়ে ঢুকলেই বাঁ দিকে প্রশাসনিক ভবন ও ডান দিকে বিক্রয়কেন্দ্র। ভেতরে একতলা ও টিনশেডের মোট ১৩টি স্থাপনা রয়েছে। খামারের প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন স্থানের পলেস্তারা খসে পড়েছে। পানির ট্যাংকের খুঁটিগুলোর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরায় সেটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

ব্যবস্থাপকের বাসভবন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসিক ভবন এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বাচ্চা পালনের চারটি শেডের মধ্যে দুটি পরিত্যক্ত। দুটি শেড, প্রশাসনিক ভবন ও বিক্রয়কেন্দ্র বাদে সবক’টি ভবনই এমন জীর্ণশীর্ণ। দুই যুগ ধরে এসব ভবন সংস্কারের মুখ দেখেনি। অব্যবস্থাপনা আর সংস্কারের অভাবে তিনটি শেডের মধ্যে দুটি শেড বন্ধ ১৫ বছর। এই দীর্ঘ সময় ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন বন্ধ রাখা রয়েছে। বছরে ২০ হাজার বাচ্চা উৎপাদনের কথা থাকলেও বর্তমানে ১২ হাজার ৪০৫টি পালন করা হচ্ছে। বাইরের জেলা থেকে এসব বাচ্চা সরবরাহ করে একটি মাত্র শেডে রাখছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় নষ্ট হয়ে গেছে পানির পাম্প, জেনারেটর, গাড়িসহ বেশি কিছু মালামাল।

জানা গেছে, রাজবাড়ী শহরের নতুনবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার ভবানিপুর গ্রামে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে প্রায় ২ দশমিক ৮৮ একর জমির ওপর ১৯৮১-৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজবাড়ী সরকারি হাঁস-মুরগির খামার। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর’ কর্তৃক খামারটি পরিচালিত হয়। সাধারণ মানুষের মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণ এবং বেকারত্ব ঘুচিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার প্রতিষ্ঠা করে এ খামার। এখানে মুরগির বাচ্চা পালনের জন্য রয়েছে চারটি শেড। এছাড়া প্রশাসনিক ভবন, ব্যবস্থাপকের বাসভবন, অতিথি কক্ষ, বিক্রয়কেন্দ্র, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন আছে।

সূত্রে জানা যায়, খামারের জন্য বরাদ্দ করা জনবলের সংখ্যা মোট ১৪ জন। এর মধ্যে ইলেকট্রিশিয়ান, পোলট্রি টেকনিশিয়ানে দুটি পদের বিপরীতে একজন, পোলট্রি ডেভেলপমেন্ট অফিসার ও হ্যাচারি অ্যাটেন্ডেন্ট পদে জনবল আছে। এছাড়া ব্যবস্থাপক, পোলট্রি টেকনিশিয়ান (২), অফিস সহকারী, ড্রাইভার, পোলট্রি অ্যাটেন্ডেন্ট, নৈশপ্রহরী, এলএমএসএস ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদগুলো শূন্য রয়েছে।

জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি অফিসার ডা. মো. কামাল বাশার খামারের ব্যবস্থাপকের অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। আর হ্যাচারি অ্যাটেন্ডেন্ট আলমগীর আকন প্রেষণে নিজের সুবিধামতো স্থানে কর্মরত আছেন। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে খামারের কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে। এমনকি নামে হাঁস-মুরগির খামার হলেও আজ পর্যন্ত এখানে হাঁস পালনের কোনো কার্যক্রম শুরুই করা হয়নি। স্থানীয় সুজন বিষ্ণু বলেন, ঠিকমতো খামারটি চালু থাকলে এলাকার লোকজন কম দামে মুরগি ও ডিম পেত। পাশাপাশি বেকার যুবকেরা এখান থেকে মুরগির বাচ্চা নিয়ে পালন করে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারত। কিন্তু খামারটি এখন তাদের তেমন কোনো কাজেই আসছে না।


স্থানীয় ৮ থেকে ১০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ খামারে বাজারের তুলনায় অনেক কম দামে মুরগির বাচ্চা পাওয়া যায়। ফলে সাধারণ মানুষ তা কিনতে খুব আগ্রহী। কিন্তু মুরগির বাচ্চা কিনতে এসে বেশির ভাগ মানুষকেই খালি হাতে ফিরে যেতে হয়। কর্মকর্তাদের সঙ্গে যাদের সখ্যতা আছে, তাদের কাছেই অধিকাংশ বাচ্চা বিক্রি করা হয়। খামারের কারিগরি বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা পোলট্রি টেকনিশিয়ান রবিউল ইসলাম বলেন, খামার প্রতিষ্ঠার সময় চারটি শেড নির্মিত হয়। মুরগির বাচ্চা পালনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল বছরে ২০ হাজার। কিন্তু দুটি শেড দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় এখন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মুরগির বাচ্চা পালন করা হয়েছে ১২ হাজার ৪০৫টি।জেলার চাহিদা মেটাতে এখন পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে বাচ্চা আনতে হচ্ছে।
খামারের ব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. কামাল বাশার বলেন, জনবল সংকটের কারণে খামারের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই খামারের কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য সরকারের অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু সেটা আমরা পাইনি। তবে খামারটি সংস্কার করে পুনরায় চালু করতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

নাগরিক প্রতিনিধি, রাজবাড়ী

১১ জুলাই, ২০২৪,  2:21 PM

news image

অব্যবস্থাপনা আর সংস্কারের অভাবে রাজবাড়ীর একমাত্র সরকারি হাঁস-মুরগির খামারের বেহাল দশা। প্রায় দুই যুগ ধরে এ খামারে বন্ধ রয়েছে হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন। এছাড়া জরাজীর্ণ শেডসহ রয়েছে জনবলের তীব্র সংকট। ফলে কয়েক কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অন্যদিকে খামারটি দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। সরেজমিনে দেখা যায়, চারপাশে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা খামারের মূল ফটক দিয়ে ঢুকলেই বাঁ দিকে প্রশাসনিক ভবন ও ডান দিকে বিক্রয়কেন্দ্র। ভেতরে একতলা ও টিনশেডের মোট ১৩টি স্থাপনা রয়েছে। খামারের প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন স্থানের পলেস্তারা খসে পড়েছে। পানির ট্যাংকের খুঁটিগুলোর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরায় সেটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

ব্যবস্থাপকের বাসভবন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসিক ভবন এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বাচ্চা পালনের চারটি শেডের মধ্যে দুটি পরিত্যক্ত। দুটি শেড, প্রশাসনিক ভবন ও বিক্রয়কেন্দ্র বাদে সবক’টি ভবনই এমন জীর্ণশীর্ণ। দুই যুগ ধরে এসব ভবন সংস্কারের মুখ দেখেনি। অব্যবস্থাপনা আর সংস্কারের অভাবে তিনটি শেডের মধ্যে দুটি শেড বন্ধ ১৫ বছর। এই দীর্ঘ সময় ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন বন্ধ রাখা রয়েছে। বছরে ২০ হাজার বাচ্চা উৎপাদনের কথা থাকলেও বর্তমানে ১২ হাজার ৪০৫টি পালন করা হচ্ছে। বাইরের জেলা থেকে এসব বাচ্চা সরবরাহ করে একটি মাত্র শেডে রাখছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় নষ্ট হয়ে গেছে পানির পাম্প, জেনারেটর, গাড়িসহ বেশি কিছু মালামাল।

জানা গেছে, রাজবাড়ী শহরের নতুনবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার ভবানিপুর গ্রামে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে প্রায় ২ দশমিক ৮৮ একর জমির ওপর ১৯৮১-৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজবাড়ী সরকারি হাঁস-মুরগির খামার। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর’ কর্তৃক খামারটি পরিচালিত হয়। সাধারণ মানুষের মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণ এবং বেকারত্ব ঘুচিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার প্রতিষ্ঠা করে এ খামার। এখানে মুরগির বাচ্চা পালনের জন্য রয়েছে চারটি শেড। এছাড়া প্রশাসনিক ভবন, ব্যবস্থাপকের বাসভবন, অতিথি কক্ষ, বিক্রয়কেন্দ্র, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন আছে।

সূত্রে জানা যায়, খামারের জন্য বরাদ্দ করা জনবলের সংখ্যা মোট ১৪ জন। এর মধ্যে ইলেকট্রিশিয়ান, পোলট্রি টেকনিশিয়ানে দুটি পদের বিপরীতে একজন, পোলট্রি ডেভেলপমেন্ট অফিসার ও হ্যাচারি অ্যাটেন্ডেন্ট পদে জনবল আছে। এছাড়া ব্যবস্থাপক, পোলট্রি টেকনিশিয়ান (২), অফিস সহকারী, ড্রাইভার, পোলট্রি অ্যাটেন্ডেন্ট, নৈশপ্রহরী, এলএমএসএস ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদগুলো শূন্য রয়েছে।

জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি অফিসার ডা. মো. কামাল বাশার খামারের ব্যবস্থাপকের অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। আর হ্যাচারি অ্যাটেন্ডেন্ট আলমগীর আকন প্রেষণে নিজের সুবিধামতো স্থানে কর্মরত আছেন। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে খামারের কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে। এমনকি নামে হাঁস-মুরগির খামার হলেও আজ পর্যন্ত এখানে হাঁস পালনের কোনো কার্যক্রম শুরুই করা হয়নি। স্থানীয় সুজন বিষ্ণু বলেন, ঠিকমতো খামারটি চালু থাকলে এলাকার লোকজন কম দামে মুরগি ও ডিম পেত। পাশাপাশি বেকার যুবকেরা এখান থেকে মুরগির বাচ্চা নিয়ে পালন করে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারত। কিন্তু খামারটি এখন তাদের তেমন কোনো কাজেই আসছে না।


স্থানীয় ৮ থেকে ১০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ খামারে বাজারের তুলনায় অনেক কম দামে মুরগির বাচ্চা পাওয়া যায়। ফলে সাধারণ মানুষ তা কিনতে খুব আগ্রহী। কিন্তু মুরগির বাচ্চা কিনতে এসে বেশির ভাগ মানুষকেই খালি হাতে ফিরে যেতে হয়। কর্মকর্তাদের সঙ্গে যাদের সখ্যতা আছে, তাদের কাছেই অধিকাংশ বাচ্চা বিক্রি করা হয়। খামারের কারিগরি বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা পোলট্রি টেকনিশিয়ান রবিউল ইসলাম বলেন, খামার প্রতিষ্ঠার সময় চারটি শেড নির্মিত হয়। মুরগির বাচ্চা পালনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল বছরে ২০ হাজার। কিন্তু দুটি শেড দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় এখন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মুরগির বাচ্চা পালন করা হয়েছে ১২ হাজার ৪০৫টি।জেলার চাহিদা মেটাতে এখন পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে বাচ্চা আনতে হচ্ছে।
খামারের ব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. কামাল বাশার বলেন, জনবল সংকটের কারণে খামারের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই খামারের কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য সরকারের অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু সেটা আমরা পাইনি। তবে খামারটি সংস্কার করে পুনরায় চালু করতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।