শিরোনামঃ
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে একনেক সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ১২ প্রকল্পের অনুমোদন  ইউরোপের পথে প্রতারণা, দালালের ফাঁদে স্বপ্ন এখন বন্দিশালা!  গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউপি ভোট ১২ নভেম্বর, সাত ধাপে নির্বাচন নভেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন লাইসেন্স ছাড়া করা যাবে না কোনো খাদ্য ব্যবসা ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে : ইসি আনোয়ারুল দীর্ঘ সময় এসি চালালে যেসব ভুল করবেন না

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ চলছেই

#
news image

আইন ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে কংক্রিটের অবকাঠামো তৈরি অব্যাহত আছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা করলেও থামানো যাচ্ছে না এই দৌরাত্ম্য। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) মতে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ১৩ এলাকার (ইসিএ) একটি দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। আইন মতে, এই দ্বীপে এমন কোনো কাজ করা যাবে না যেখানে দ্বীপের পানি, মাটি, বায়ু বা প্রাণীর ক্ষতি করে। এখানে কোনো প্রকার অবকাঠামো নির্মাণও করা যাবে না। আর অবকাঠামো নির্মাণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ছাড়পত্রও দিতে পারে না। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০২২ সালে সরকার ঘোষিত প্রজ্ঞাপন। যে প্রজ্ঞাপনে সেন্টমার্টিনকে মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করে সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী এখানে ইট-সিমেন্ট আনা নিষিদ্ধ। শুধু বাঁশ-কাঠ দিয়ে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দ্বীপে একের পর এক অবকাঠামো তৈরি অব্যাহত রয়েছে।

২০২০ সালে সেন্টমার্টিনে এক জরিপ শেষে এনভায়রনমেন্ট পিপল নামে একটি পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জানিয়েছিল, দ্বীপটিতে ছোট-বড় ১২৩টি আবাসিক হোটেল ও কটেজ ছিল। এর মধ্যে আড়াই ডজনের বেশি ছিল দুই ও তিনতলা পাকা ভবন। তিন বছরের ব্যবধানে গত ডিসেম্বরে একই সংগঠনের জরিপে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে সেন্টমার্টিনে হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা আড়াই শতাধিক। ফলে দেখা যাচ্ছে, গত তিন বছরে নতুন তৈরি হয়েছে ১৩০টির বেশি অবকাঠামো। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘ইসিএ বা মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া কাগজের ফাইলে বন্দি একটি বিষয়। এখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে প্রশাসন আন্তরিক নয়। প্রকাশ্যেই টেকনাফ থেকে নির্মাণসামগ্রী এনে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের লোকজন এসব স্থাপনা বন্ধে মৌখিক নির্দেশ দিয়ে থাকে, অভিযান চালায়। ক্ষেত্র বিশেষে মামলা করেন। এসবের পরও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ হচ্ছে না।

গত ডিসেম্বরে যে অবস্থান দেখা গেছে এক মাসের ব্যবধানে সেই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দ্বীপে ২০টির বেশি স্থাপনা নির্মাণাধীন রয়েছে।’পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া অবকাঠামো নির্মাণ ও সরকারের আদেশ অমান্য করার দায়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা ফাইজুল কবির বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় মামলা করেন। মামলায় ১২ প্রতিষ্ঠান ও মালিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ট্রফিকানা বিচ রিসোর্টের মালিক শেখ ফরহাদ, জলকুটি রিসোর্টের মালিক ড. মমি আনসারি, দক্ষিণা হাওয়ার মালিক ফেরদৌস সাগর, আরণ্যক ইকো রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ খাইরুল আলম, মেঘনা বিচ ভিউ রিসোর্টের মালিক মোশারফ হোসেন, ডিঙ্গি ইকো রিসোর্টের মালিক মোবাশ্বির চৌধুরী, জলকাব্য রিসোর্টের মালিক চপল কর্মকার ও চঞ্চল কর্মকার, গ্রিন বিচ রিসোর্টের মালিক আজিত উল্লাহ, সূর্যস্নানের মালিক ইমরান, স্যান্ড অ্যান্ড সেন্ড টুইন বিচ রিসোর্টের মালিক ইমতিয়াজুল ফরহাদ, নোঙর বিচ রিসোর্টের মালিক সাজ্জাদ মাহমুদ ও নীল হওয়ার মালিক আবদুল্লাহ মনির।

টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গণি জানিয়েছেন, পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা ফাইজুল কবির বাদী হয়ে দায়ের করা মামলাটি সংশ্লিষ্ট আইনে লিপিবদ্ধ করে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারকে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। ফাইজুল কবির জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে সরেজমিনে তদন্ত শেষে প্রমাণ পাওয়ার পর এই ১২ প্রতিষ্ঠানের ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সরেজমিনে এ ১২ প্রতিষ্ঠান ছাড়াও দ্বীপে আরও অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থাপনা নির্মাণে জড়িতদের দেওয়া তথ্য বলছে, দ্বীপে সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার ৪-৫টি স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। 

জাফর আলম, কক্সবাজার

০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪,  8:53 AM

news image

আইন ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে কংক্রিটের অবকাঠামো তৈরি অব্যাহত আছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা করলেও থামানো যাচ্ছে না এই দৌরাত্ম্য। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) মতে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ১৩ এলাকার (ইসিএ) একটি দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। আইন মতে, এই দ্বীপে এমন কোনো কাজ করা যাবে না যেখানে দ্বীপের পানি, মাটি, বায়ু বা প্রাণীর ক্ষতি করে। এখানে কোনো প্রকার অবকাঠামো নির্মাণও করা যাবে না। আর অবকাঠামো নির্মাণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ছাড়পত্রও দিতে পারে না। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০২২ সালে সরকার ঘোষিত প্রজ্ঞাপন। যে প্রজ্ঞাপনে সেন্টমার্টিনকে মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করে সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী এখানে ইট-সিমেন্ট আনা নিষিদ্ধ। শুধু বাঁশ-কাঠ দিয়ে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দ্বীপে একের পর এক অবকাঠামো তৈরি অব্যাহত রয়েছে।

২০২০ সালে সেন্টমার্টিনে এক জরিপ শেষে এনভায়রনমেন্ট পিপল নামে একটি পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জানিয়েছিল, দ্বীপটিতে ছোট-বড় ১২৩টি আবাসিক হোটেল ও কটেজ ছিল। এর মধ্যে আড়াই ডজনের বেশি ছিল দুই ও তিনতলা পাকা ভবন। তিন বছরের ব্যবধানে গত ডিসেম্বরে একই সংগঠনের জরিপে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে সেন্টমার্টিনে হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা আড়াই শতাধিক। ফলে দেখা যাচ্ছে, গত তিন বছরে নতুন তৈরি হয়েছে ১৩০টির বেশি অবকাঠামো। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘ইসিএ বা মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া কাগজের ফাইলে বন্দি একটি বিষয়। এখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে প্রশাসন আন্তরিক নয়। প্রকাশ্যেই টেকনাফ থেকে নির্মাণসামগ্রী এনে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের লোকজন এসব স্থাপনা বন্ধে মৌখিক নির্দেশ দিয়ে থাকে, অভিযান চালায়। ক্ষেত্র বিশেষে মামলা করেন। এসবের পরও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ হচ্ছে না।

গত ডিসেম্বরে যে অবস্থান দেখা গেছে এক মাসের ব্যবধানে সেই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দ্বীপে ২০টির বেশি স্থাপনা নির্মাণাধীন রয়েছে।’পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া অবকাঠামো নির্মাণ ও সরকারের আদেশ অমান্য করার দায়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা ফাইজুল কবির বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় মামলা করেন। মামলায় ১২ প্রতিষ্ঠান ও মালিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ট্রফিকানা বিচ রিসোর্টের মালিক শেখ ফরহাদ, জলকুটি রিসোর্টের মালিক ড. মমি আনসারি, দক্ষিণা হাওয়ার মালিক ফেরদৌস সাগর, আরণ্যক ইকো রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ খাইরুল আলম, মেঘনা বিচ ভিউ রিসোর্টের মালিক মোশারফ হোসেন, ডিঙ্গি ইকো রিসোর্টের মালিক মোবাশ্বির চৌধুরী, জলকাব্য রিসোর্টের মালিক চপল কর্মকার ও চঞ্চল কর্মকার, গ্রিন বিচ রিসোর্টের মালিক আজিত উল্লাহ, সূর্যস্নানের মালিক ইমরান, স্যান্ড অ্যান্ড সেন্ড টুইন বিচ রিসোর্টের মালিক ইমতিয়াজুল ফরহাদ, নোঙর বিচ রিসোর্টের মালিক সাজ্জাদ মাহমুদ ও নীল হওয়ার মালিক আবদুল্লাহ মনির।

টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গণি জানিয়েছেন, পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা ফাইজুল কবির বাদী হয়ে দায়ের করা মামলাটি সংশ্লিষ্ট আইনে লিপিবদ্ধ করে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারকে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। ফাইজুল কবির জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে সরেজমিনে তদন্ত শেষে প্রমাণ পাওয়ার পর এই ১২ প্রতিষ্ঠানের ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সরেজমিনে এ ১২ প্রতিষ্ঠান ছাড়াও দ্বীপে আরও অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থাপনা নির্মাণে জড়িতদের দেওয়া তথ্য বলছে, দ্বীপে সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার ৪-৫টি স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে।