শিরোনামঃ
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে একনেক সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ১২ প্রকল্পের অনুমোদন  ইউরোপের পথে প্রতারণা, দালালের ফাঁদে স্বপ্ন এখন বন্দিশালা!  গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউপি ভোট ১২ নভেম্বর, সাত ধাপে নির্বাচন নভেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন লাইসেন্স ছাড়া করা যাবে না কোনো খাদ্য ব্যবসা ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে : ইসি আনোয়ারুল দীর্ঘ সময় এসি চালালে যেসব ভুল করবেন না

চালের দাম কমাতে চার দিন সময় দিলেন খাদ্যমন্ত্রী

#
news image

নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরপরই চালের দাম কেজিতে পাঁচ থেকে আট টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে প্রতিটি সবজির দাম। মাছ-মাংসের দামও বেড়েছে। এমতাবস্থায় ধান-চালের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে বড় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। চার দিনের মধ্যে চালের দাম কমিয়ে আগের অবস্থায় না আনলে মজুদকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার খাদ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে ধান-চালের বাজার ঊর্ধ্বগতির রোধকল্পে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন খাদ্যমন্ত্রী। মতবিনিময়সভার পর খাদ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা চার দিনের মধ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে চালের দাম বাড়িয়েছেন, তাঁরা আবার চার দিনের ব্যবধানে আগের জায়গায় নিয়ে আসবেন। তিনি বলেন, সারা মৌসুমে আমন চালের দাম বাড়ানো কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

আমরা লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়িয়েছেন, এবং এখন একই পরিমাণে কমাতে হবে। কারখানায় ২ টাকা এবং পাইকারি বাজারে ৬ টাকা বাড়ানোর কেন বাড়বে প্রশ্ন রেখে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, অবৈধ মজুতদার বা যারা অহেতুক দাম বাড়ায় তারা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিনা লাইসেন্সে যারা ধানের স্টক করছে, তারা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। মন্ত্রী বলেন, প্রস্তুত করা চাল বাজারে ছাড়তে হবে। সংকট তৈরি করা যাবে না। প্রচুর ধান আছে। সরবরাহের ঘাটতি নেই। এ সময় আরসি ফুড ও ডিসি ফুডদের ফুড গ্রেইন লাইসেন্সবিহীন মজুদদারি বন্ধ করতে ও লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য নির্দেশনা দেন সাধন মজুমদার। নিজের বাড়ি থেকেই অভিযান শুরু বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি অবৈধ আড়তদারদের উদ্দেশে বলেন, ‘যারা হাজার হাজার মণ ধান আড়তদারির নাম করে বিনা লাইসেন্সে স্টক করছে, তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো উপায় নেই।

আপনি মিল মালিক হলেও যদি আপনার কাছে ধান মজুদ থাকে তাহলে আপনাকেও ছাড় দেওয়ার কোনো উপায় নেই। আমার বাবা হলেও উপায় নেই।’মন্ত্রী নিজের বাড়ি থেকেই এ কার্যক্রম শুরু করেছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অপারেশনে আছে। ব্যাবসায়িক সূত্র বা ইকোনমিকস থিওরিতে বলে, যখন চাহিদা বেশি হয় তখন দাম বাড়ে, সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়ে।’ প্রয়োজনে সরকারিভাবে আমদানি করা হবে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে সরবরাহ কমের কোনো অবস্থা দেখছি না। প্রচুর ধান আছে। সরবরাহ যাতে না কমে যায় তার জন্য আমরা এরইমধ্যে ট্যাক্স ফ্রি করে দিয়ে আমদানি করার চেষ্টা করছি, আমাদের ফাইল প্রসেসে আছে। হয়তো আমরা এটা দুই-চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ফাইনাল করব।’

ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের প্রতিক্রিয়া বৈঠকে নওগাঁ ধান-চাল মালিক সমিতির নিরোদ বরণ সাহা চন্দন বলেন, মোটা চালের দাম বাড়েনি। সরু ও মোটা চালের দাম এক নয়। মোটা চালের দাম দুই-তিন টাকা বেড়েছে। গত ইরি মৌসুমের জিরাশাইল চালের দাম পাঁচ-ছয় টাকা বেড়েছে। যেভাবে ঢালাওভাবে মিলারদের দায়ী করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। করপোরেট কম্পানিগুলো ধান-চালের বাজারকে অস্বাভাবিকভাবে বাড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দিনাজপুরের ব্যবসায়ী সমিতির হান্নান বলেন, সরকারিভাবে একই সঙ্গে সব জেলা থেকে প্রকিউরমেন্ট করায় মোটা ধানের সংকট হয়। নির্বাচনের কারণে সবাই ব্যস্ত ছিলেন, ছাঁটাই ও বাজারজাত কম হয়েছে। এরইমধ্যে ধানের দাম ও চালের দাম কমতে শুরু করেছে। মনিটরিং বাড়ালে দাম আরো কমবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ অটো মেজর হাসকিং মিল মালিক সমিতির সেক্রেটারি এইচ আর খান পাঠান সাকি বলেন, ‘সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক বাজার প্রত্যাশা করি আমরা।

চালের বাজার বাড়লে ছোট মিল মালিকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ প্রাণ গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, বাজার বাড়তি থাকায় তাঁরা ধান কিনছেন না। এসিআইয়ের রুবেল বলেন, এ বছর নন-প্রফেশনাল লাইসেন্সবিহীন লোক ধান কিনছে। তারা অবৈধ মজুদ করে বাজার অস্থির করছে। বাংলাদেশ অটো মেজর হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ বলেন, মিলারদের প্রতিযোগিতা করে ব্যবসা করতে হয়। সিন্ডিকেটের কোনো সুযোগ নেই। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন, এফপিএমইউয়ের মহাপরিচালক মো. শহিদুল আলম, খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

অনলাইন ডেক্স

১৮ জানুয়ারি, ২০২৪,  4:58 PM

news image

নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরপরই চালের দাম কেজিতে পাঁচ থেকে আট টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে প্রতিটি সবজির দাম। মাছ-মাংসের দামও বেড়েছে। এমতাবস্থায় ধান-চালের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে বড় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। চার দিনের মধ্যে চালের দাম কমিয়ে আগের অবস্থায় না আনলে মজুদকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার খাদ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে ধান-চালের বাজার ঊর্ধ্বগতির রোধকল্পে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন খাদ্যমন্ত্রী। মতবিনিময়সভার পর খাদ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা চার দিনের মধ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে চালের দাম বাড়িয়েছেন, তাঁরা আবার চার দিনের ব্যবধানে আগের জায়গায় নিয়ে আসবেন। তিনি বলেন, সারা মৌসুমে আমন চালের দাম বাড়ানো কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

আমরা লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়িয়েছেন, এবং এখন একই পরিমাণে কমাতে হবে। কারখানায় ২ টাকা এবং পাইকারি বাজারে ৬ টাকা বাড়ানোর কেন বাড়বে প্রশ্ন রেখে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, অবৈধ মজুতদার বা যারা অহেতুক দাম বাড়ায় তারা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিনা লাইসেন্সে যারা ধানের স্টক করছে, তারা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। মন্ত্রী বলেন, প্রস্তুত করা চাল বাজারে ছাড়তে হবে। সংকট তৈরি করা যাবে না। প্রচুর ধান আছে। সরবরাহের ঘাটতি নেই। এ সময় আরসি ফুড ও ডিসি ফুডদের ফুড গ্রেইন লাইসেন্সবিহীন মজুদদারি বন্ধ করতে ও লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য নির্দেশনা দেন সাধন মজুমদার। নিজের বাড়ি থেকেই অভিযান শুরু বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি অবৈধ আড়তদারদের উদ্দেশে বলেন, ‘যারা হাজার হাজার মণ ধান আড়তদারির নাম করে বিনা লাইসেন্সে স্টক করছে, তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো উপায় নেই।

আপনি মিল মালিক হলেও যদি আপনার কাছে ধান মজুদ থাকে তাহলে আপনাকেও ছাড় দেওয়ার কোনো উপায় নেই। আমার বাবা হলেও উপায় নেই।’মন্ত্রী নিজের বাড়ি থেকেই এ কার্যক্রম শুরু করেছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অপারেশনে আছে। ব্যাবসায়িক সূত্র বা ইকোনমিকস থিওরিতে বলে, যখন চাহিদা বেশি হয় তখন দাম বাড়ে, সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়ে।’ প্রয়োজনে সরকারিভাবে আমদানি করা হবে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে সরবরাহ কমের কোনো অবস্থা দেখছি না। প্রচুর ধান আছে। সরবরাহ যাতে না কমে যায় তার জন্য আমরা এরইমধ্যে ট্যাক্স ফ্রি করে দিয়ে আমদানি করার চেষ্টা করছি, আমাদের ফাইল প্রসেসে আছে। হয়তো আমরা এটা দুই-চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ফাইনাল করব।’

ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের প্রতিক্রিয়া বৈঠকে নওগাঁ ধান-চাল মালিক সমিতির নিরোদ বরণ সাহা চন্দন বলেন, মোটা চালের দাম বাড়েনি। সরু ও মোটা চালের দাম এক নয়। মোটা চালের দাম দুই-তিন টাকা বেড়েছে। গত ইরি মৌসুমের জিরাশাইল চালের দাম পাঁচ-ছয় টাকা বেড়েছে। যেভাবে ঢালাওভাবে মিলারদের দায়ী করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। করপোরেট কম্পানিগুলো ধান-চালের বাজারকে অস্বাভাবিকভাবে বাড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দিনাজপুরের ব্যবসায়ী সমিতির হান্নান বলেন, সরকারিভাবে একই সঙ্গে সব জেলা থেকে প্রকিউরমেন্ট করায় মোটা ধানের সংকট হয়। নির্বাচনের কারণে সবাই ব্যস্ত ছিলেন, ছাঁটাই ও বাজারজাত কম হয়েছে। এরইমধ্যে ধানের দাম ও চালের দাম কমতে শুরু করেছে। মনিটরিং বাড়ালে দাম আরো কমবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ অটো মেজর হাসকিং মিল মালিক সমিতির সেক্রেটারি এইচ আর খান পাঠান সাকি বলেন, ‘সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক বাজার প্রত্যাশা করি আমরা।

চালের বাজার বাড়লে ছোট মিল মালিকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ প্রাণ গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, বাজার বাড়তি থাকায় তাঁরা ধান কিনছেন না। এসিআইয়ের রুবেল বলেন, এ বছর নন-প্রফেশনাল লাইসেন্সবিহীন লোক ধান কিনছে। তারা অবৈধ মজুদ করে বাজার অস্থির করছে। বাংলাদেশ অটো মেজর হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ বলেন, মিলারদের প্রতিযোগিতা করে ব্যবসা করতে হয়। সিন্ডিকেটের কোনো সুযোগ নেই। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন, এফপিএমইউয়ের মহাপরিচালক মো. শহিদুল আলম, খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।